হাইতকান্দিতে ওয়ারিশ সনদ জালিয়াতি করে অন্যের জমি নামজারি করার অভিযোগ

top Banner

চলমান রিপোর্ট :
মিরসরাই উপজেলার ১৪ নং হাইতকান্দি ইউনিয়নের দমদমা এলকায় ভুয়া ওয়ারিশ সনদ নিয়ে অন্যের জমি নামজারি এবং দখলের অভিযোগ উঠেছে। ওই এলাকার নিকাশ রঞ্জন বড়ুয়া, প্রয়াত নিরোদ বরণ বড়ুয়া ও প্রয়াত মোহিত বরণ বড়ুয়ার উত্তরাধিকারমুলে পাওয়া দখলি জমি জবর-দখলের চেষ্টা করছে একই ইউনিয়নের বাসিন্দা মলয় বড়ুয়া এবং তার ভাই তরুণ বড়ুয়া।
এদিকে এই ঘটনার প্রতিকার পেতে ওই সম্পত্তির অংশীদার নিকাশ রঞ্জন বড়ুয়া গত ২৪ মার্চ মিরসরাই উপজেলা ভূমি অফিসে একটি মিস কেইস (৫৮/২৫) করে। সৃজিত নামজারী খতিয়ান বাতিলের জন্য এই দুই ভাইয়ের প্রতারণার শিকার অন্য ভুক্তভোগী ওয়ারিশরাও ২৫ মার্চ মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসে ও মিরসরাই ভূমি অফিসে একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, মিরসরাই উপজেলার ৮৫ নম্বর কুরুয়া মৌজার বি এস ১৭৭৯ নম্বর খতিয়ানে মোট জমির পরিমান ৬১ শতক। খতিয়ানে মৃত সূর্য্য মোহন বড়ুয়ার ওয়ারিশ হিসেবে মলয় বড়ুয়া এবং তার ভাই তরুণ বড়ুয়ার পিতা মৃত বিনোদ বিহারী বড়ুয়ার হিস্যা ৫ দশমিক ৮ শতক। কিন্তু তারা উত্তরাধিকার সম্পত্তি ওয়ারিশদের মধ্যে বন্টন প্রক্রিয়া ছাড়াই নিকাশ রঞ্জন বড়ুয়া সহ অন্যান্য অংশিদারদের অতিরিক্ত আরো প্রায় ১০ শতক দখলীয় জায়গা নিজেদের নামে ৩৭১০ নম্বর খতিয়ানে নামজারি করে নিয়েছে। জোরপূর্বক ভুক্তভোগীদের জমি দখলে নিতে নানা সময় হুমকি দিয়ে আসছেন।
যেভাবে জালিয়াতি হয় ওয়ারিশ সনদ:
হাইতকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের প্যাডে ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী স্বাক্ষরিত ১০৭/২০ সূত্রে ওয়ারিশ সনদপত্রে দেখা যায় বিনোদ বিহারীর দুই ছেলে মলয় বড়ুয়া এবং তরুণ বড়ুয়া।
কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ারিশ সনদ রেজিষ্টারে ওই ১০৭/২০ নম্বর সূত্র ব্যবহার করে বিনোদ বিহারী বড়ুয়ার ছেলে মলয় বড়ুয়া এবং তরুণ বড়ুয়ার নামে ইস্যু করা কোন ওয়ারিশ সনদের তথ্য পাওয়া যায়নি। ইউনিয়ন পরিষদের রেজিষ্টারে ১০৭/২০ নম্বর সূত্র ব্যবহার করে একজন নারীর ওয়ারিশ সনদ দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
এছাড়া ওয়ারিশ সনদপত্রে দেখা যায় মৃত বিনোদ বিহারি বড়ুয়ার ওয়ারিশ হিসেবে শুধুমাত্র মলয় বড়ুয়া এবং তরুণ বড়ুয়ার নাম উল্লেখ করা হলেও প্রকৃতপক্ষে তার তিন ছেলে এবং এক মেয়ে। বিনোদ বিহারী বড়ুয়ার ওয়ারিশ সনদে তার বড় ছেলে মৃত বাবু বড়ুয়া এবং মেয়ে বন্ধনা বড়ুয়ার নাম উল্লেখ করা হয়নি।
ইউনিয়ন পরিষদের ১০৮/২০ সূত্রে ইস্যুকৃত ওয়ারিশ সনদে মৃত সূর্য্য মোহন বড়ুয়ার তিন ছেলে দেখানো হলেও নামজারীতে ওয়ারিশ সনদে দেখানো হয় শুধুমাত্র এক ছেলে মৃত বিনোদ বিহারি বড়ুয়া। ইউনিয়ন পরিষদের ১৫৮/২১ সূত্রে ইস্যুকৃত ওয়ারিশ সনদে মৃত রবিদাস বড়ুয়ার দুই ছেলে দেখানো হয় কিন্তু বাস্তবে চার ছেলে।
প্রতারণার শিকার নিকাশ রঞ্জন বড়ুয়া বলেন, বংশ পরম্পরায় আমরা ওয়ারিশ সূত্রে বিভিন্ন জায়গা নিজেদের ভোগ দখলে আছি। কিন্তু সরকারী রাজস্ব প্রদানের সুবিধার্থে নামজারী খতিয়ান সৃজন করার জন্য ইউনিয়ন (ভূমি) অফিসে গিয়ে জানিতে পারি, বিনোদ বিহারি বড়ুয়ার ওয়ারিশ সনদ জালিয়াতি করে মলয় বড়ুয়া এবং তার ভাই তরুণ বড়ুয়া আমি সহ অন্যান্য ওয়ারিশদের অতিরিক্ত আরো ১০ শতাংশ জমি নিজেদের নামে নামজারী খতিয়ান ভুক্ত করে।
মিসমামলা সূত্রে জানা গেছে, বিএস ১৭৭৯ রেকর্ডিয় খতিয়ান ভুক্ত জমি ভুয়া ওয়ারিশ সনদ দাখিল করে বিএস ৩৭১০ নং খতিয়ানে চারটি দাগে ১৫ শতক জমি সৃজন করে। সৃজিত বিএস খতিয়ান বাতিল করে জমি পূর্বের মূল বি.এস ১৭৭৯ নং খতিয়ান ভুক্ত করার আবেদন করেন নিকাশ রঞ্জন বড়ুয়া।
নিয়ম অনুযায়ী, ওয়ারিশ সনদ পেতে হলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বারের সুপারিশ প্রয়োজন হয়। মলয় বড়ুয়া এবং তার ভাই তরুণ বড়ুয়ার নামে ইস্যু হওয়া ওয়ারিশ সনদের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে হাইতকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার দেবক বড়–য়া বলেন, তারা যে ওয়ারিশ সনদ ব্যবহার করে জমি নামজারী করেছে সেটি ভুয়া। অন্য একজনের নামে জারী করা ওয়ারিশ সনদে স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে তাদের দুই ভাইয়ের নাম এবং তথ্য সংযোজন করে এই জালিয়াতি করেছে। ওয়ারিশ সনদে বিনোদ বিহারী বড়ুয়ার ছেলে মৃত বাবু বড়ুয়া এবং মেয়ে বন্ধনা বড়ুয়ার নাম উল্লেখ করা হয়নি।
এ বিষয়ে তরুণ বড়ুয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি পেশায় একজন বিজিবি সদস্য। তাই গণমাধ্যমের সাথে আমার কথা বলার নিয়ম নেই। অন্যের জমি জালিয়াতি করে কেন নামজারী করেছেন এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন সাড়া না দিয়ে ফোনের সংযোগ কেটে দেন।
তরুণ বড়ুয়ার ভাই মলয় বড়ুয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা ১০ লাখ টাকা খরচ করে ওয়ারিশ সনদ এবং অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করেছি।
এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম বলেন, মিস কেইসটি তদন্ত করা হবে। সেখানে যদি জালিয়াতির কোন ঘটনা থাকে তাহলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরো খবর