মিরসরাইয়ে রাতের আধারে অন্যের জমি জোরপূর্বক দখল করে এক ভূমিদস্যুর বিরুদ্ধে রাস্তা তৈরি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের বেপজা গেইট এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আইনি প্রদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভুক্তভোগী জমির মালিকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের পূর্ব ইছাখালী মৌজার ১১১১৯ দাগে ১৫১ শতক জায়গার মালিক ছিল আছিয়া খাতুন নামে এক মহিলা। ওই মহিলা মারা যাওয়ার পর তাঁর সম্পত্তির মালিক হয় দুই ছেলে মো. মোস্তফা ও ছেরাজুল হক। মোস্তফা থেকে ১৯৯৪ সালে সাড়ে ৭৫ শতক জায়গা খরিদ করেন আব্দুর রব গং। ছেরাজুল হক থেকে ১৯৯০ সালে সাড়ে ৭৫ শতক জায়গা খরিদ করেন নুরুল আলম। নুরুল আলমের ওয়ারিশ থেকে ২০১৬ সালে মেজবাউল আলম ৫০ শতক ও গিয়াস উদ্দিন ১৫.৭৯ শতক জায়গা খরিদ করেন। অবশিষ্ট ৯.৭১ শতক জায়গা নুরুল আলমের ওয়ারিশদের দখলে রয়েছে। ওই জায়গা দীর্ঘ তিন দশকের বেশী সময় ধরে আব্দুর রব, আব্দুল কাদের ও জসিম উদ্দিনের দখলে রয়েছে । তারা ওই জমিতে চাষাবাদ করে আসছে।
জায়গার মালিক আব্দুর রব বলেন, আমি সহ আমার ভাইদের নামে সাড়ে ৭৫ শতক জায়গা খরিদ করার পর প্রায় ৩২ বছর আমাদের দখলে রয়েছে। কিন্তু হটাৎ করে গত দেড় বছর ধরে মিজানুর রহমান রিয়াদ নামে এক ভূমিদস্যু আমাদের জায়গা দখলের পাঁয়তারা করে আসছে। মঙ্গলবার রাতে ৪০ থেকে ৫০টি মোটরসাইকেল যোগে সন্ত্রাসী এনে আমাদের জমির উপর জোরপূর্বক রাস্তা বেধে পেলে। আশপাশের কয়েকজন লোক দেখলে তাদের মেরে ফেলার হুমকি দেয়। বুধবার সকালে আমরা জমিতে এসে দেখি এস্কেবেটর দিয়ে জমি খনন করে ১০ ফুট রাস্তা বেধে ফেলছে। এ যেন মগের মুল্লুক। আমরা আইনি প্রদক্ষেপ নেব।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান রিয়াদ বলেন, এই জায়গা নিয়ে ঝামেলা আছে। থানায় একাধিকবার বৈঠকও ডাকা হয়েছে। কিন্তু তারা থানায় যায়নি। জায়গার মালিক আমি না আমার চাচা গিয়াস উদ্দিন উনার পক্ষে আমি কাজ করছি।
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক বলেন, আমি এখন ছুটিতে রয়েছি। কেউ যদি লিখিত অভিযোগ দেয়, তদন্ত সাপেক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।