মিরসরাই উপজেলার আবুতোরাব ও কৈলাশগঞ্জ বাজারের উন্নয়ন বরাদ্দ টানা তিন থেকে চার বছর ধরে আটকে রাখার অভিযোগ তুলেছে বাজার পরিচালনা কমিটি ও ইজারা গ্রহীতা কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত বরাদ্দ ছাড়ের দাবি জানানো হয়েছে।
লিখিত দৃষ্টি আকর্ষণমূলক পোস্টে তারা উল্লেখ করেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রতি বাংলা সনে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে উপজেলার প্রতিটি হাটবাজার ইজারা প্রদান করা হয় এবং শর্তানুযায়ী প্রতি অর্থবছরে নির্দিষ্ট পরিমাণ উন্নয়ন বরাদ্দ দেয়ার কথা। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে ইজারা কার্যক্রম যথারীতি সম্পন্ন হলেও উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ অজ্ঞাত কারণে আটকে রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, আবুতোরাব বাজারে সবজি ও মুরগির জন্য স্থায়ী শেড নির্মাণের আবেদন অনুমোদনের পরও কাজ শুরু হয়নি। একইভাবে কৈলাশগঞ্জ বাজারে গরুর স্থায়ী শেড নির্মাণের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজ এগোয়নি। এমনকি নিজেদের তহবিল থেকে জায়গা ভরাট করে রাখা হলেও প্রশাসনিকভাবে অর্থ ছাড় হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।
এছাড়া আবুতোরাব বাজারে পয়ঃনিষ্কাশন ড্রেনেজ নির্মাণে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বাজেটের আশ্বাস পেলেও অর্থ ছাড় না হওয়ায় ইজারা কর্তৃপক্ষ নিজ খরচে ৫৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ড্রেনের স্ল্যাব নির্মাণ করেছেন বলে জানানো হয়। সেই অর্থও এখনো ফেরত পাননি তারা। ইতোপূর্বে মাছ বাজারে প্রবেশমুখের একটি কালভার্ট ভেঙে পড়লে কোনো সরকারি বরাদ্দ না থাকায় ব্যবসায়ী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুদানে তা মেরামত করা হয়।
বাজার কমিটির আহ্বায়ক এম হেলাল উদ্দিন দাবি করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সুপেয় পানির ব্যবস্থা ও পাবলিক টয়লেট সংস্কার করা হয়েছে নিজস্ব অর্থায়নে। ব্যবসায়ীদের মাসিক চাঁদা থেকে প্রাপ্ত সীমিত অর্থে চারজন দারোয়ানের বেতন দেওয়ার পর অবশিষ্ট সামান্য অর্থ দিয়েই বাজারের বিভিন্ন সংস্কারকাজ চালাতে হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের সময় পাওয়া ৭৯ হাজার ১০০ টাকাও উন্নয়ন খাতে ব্যয় করতে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ বলেন, গত তিন বছরের উন্নয়ন বরাদ্দ পেলে দৃশ্যমান উন্নয়ন সম্ভব হতো। বরাদ্দ না দেয়ায় জরুরি সংস্কারকাজ বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে বাজার পরিচালনা কমিটির ভুল বোঝাবুঝি বাড়ছে।
এ অবস্থায় নতুন ইজারা কার্যক্রম শুরুর আগে পূর্ব বরাদ্দকৃত অর্থ পূর্ণাঙ্গভাবে ছাড় দিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন বাজার পরিচালনা কমিটি। অন্যথায় অস্বচ্ছতা ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলে প্রশাসনকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।