আবুতোরাব বাজারের উচ্চ বিলাসী ইজারার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ ও গণস্বাক্ষর

top Banner

মিরসরাইয়ে ঐতিহ্যবাহী আবুতোরাব বাজার প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া মূল্যের চেয়ে কয়েকগুন বেশি দামে ইজারা নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশকরে জরুরী সভার আয়োজন করে  ব্যবসায়ী ও বাজার কমিটি। গতকাল (১১ ফেব্রুয়ারি) মঙ্গলবার রাত ৯টায় আবুতোরাবস্থ ১১ নম্বর মঘাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সভাকক্ষে বাজারের ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ জড়ো হন। সভা শেষে উপস্থিত প্রায় ৩ শতাধিক ব্যবসায়ী ঐক্যমতের ভিত্তিতে গণস্বাক্ষর প্রদান করেন।

জানা গেছে, মিরসরাই সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে গত ১৩ জানুয়ারি উপজেলার আবুতোরাব বাজার সহ ৩১টি হাট বাজারের দরপত্র আহবান করা হয়। প্রথম পর্যায়ে দরপত্র বিক্রির তারিখ ২৩ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি এবং দাখিলের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ছিল একই তারিখে দরপত্র খোলা হয়। এতে দেখা যায় এফএন্ডডি এগ্রো ও বিছমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ নামের প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ৩৫ লক্ষ টাকা দিয়ে দরপত্র দাখিল করেন ওই ইজারাদার। যা সরকারি ভ্যাট, করসহ ৪৫ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যাবে। ২১ লক্ষ টাকার দরপত্র দ্বিগুন দাম বাড়িয়ে ক্রয় করায় বাজারের ব্যবসায়ীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আবুতোরাব বাজার পরিচালনা কমিটির আহবায়ক এম হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘এই বাজার একটি ঐতিহ্যবাহী বাজার। এখানে আগে দূর দূরান্ত থেকে ক্রেতা বিক্রেতা আসতেন। তাদের পণ্য কেনা-বেচার জন্য। কিন্তু গত দুই তিন বছর আশঙ্কাজনকভাবে বাজারের ক্রেতা কমছে। আমরা বিভিন্নভাবে বিশ্লেষণ করে দেখতে পেয়েছি বিভিন্ন সিন্ডিকেটের কারণে বাজারটি তার সক্রিয়তা হারিয়েছে  একটি অসাধু চক্রের কারণে। দ্বিগুন মূল্যে বাজার ইজারা নিয়ে ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে টাকা আদায় করার জন্য তারা কিনেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।’

ব্যবসায়ী জিয়া উদ্দিন, নুরুজ্জামান রাসেল ও আবসার উদ্দিন বলেন, ‘চলতি ইজারাদার মূল্য ছিলো ২১ লক্ষ টাকা। বর্তমানে সরকার ঘোষিত দরপত্রে ২১ লক্ষ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু একটি অসাধু চক্র বাজারের ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে মনগড়া ইজারা কিনেছে। এতে করে বড় ধরণের ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা  করছেন তারা। তারা বলেন, বাড়তি ইজারার কারণে পণ্যের মূল্য বাড়তি দামে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া মাছ বাজারে কয়েকটি সিন্ডিকেটের কারণে সামুদ্রিক মাছ এই বাজারে এখন আসেনা। ফলে ক্রেতারা এই বাজার এড়িয়ে চলেন। এতে ক্ষতির মুখে পড়তে হয় ব্যবসায়ীদের। বাজারে সহনীয় মূল্যে পণ্য কেনা বেচা হলে বাজারের ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ের জন্য মঙ্গল হবে।’

সভায় উপস্থিত ছিলেন, মঘাদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব আলা উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন, বর্তমান ইজারাদার রবিউল হোসেন রবি, সাবেক ইজারাদার ওসমান গনি, বাজার পরিচালনা কমিটির আহবায়ক এম হেলাল উদ্দিন, সদস্য সচিব ইমাম হোসেন, উপজেলা সংগ্রাম ও উন্নয়ন কমিটির আহবায়ক মো. আশরাফ উদ্দিন, ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন রিপন প্রমুখ।

এই বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা জেরিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কেউ কোন অভিযোগ এখনও পর্যন্ত করেনি। বিষয়টি খুব ইতিবাচক, ইজারার টাকাটা সরকারের কোষাগারে জমা হবে, সরকার রাজস্ব পাবে।’

আরো খবর