নিজস্ব প্রতিবেদক
চলতি বছরের শেষে এবং নতুন বছরের শুরুতে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী নভেম্বরে তফসিল ঘোষণা করা হবে। মিরসরাই উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভায় মেয়র ও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে এলাকায় সামাজিক কর্মকান্ড করে যাচ্ছেন অনেকে। এবারের স্থানীয় নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হলেও অলিখিতভাবে দলীয় সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগ বিহীন স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হবেন বিএনপি ও জামায়াত নেতৃবৃন্দ। কিছু ইউনিয়ন বিএনপির শক্ত প্রতিদ্বন্ধি বিএনপি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী উপজেলার একটি পৌরসভা ও বেশকিছু ইউনিয়নে দলের সমর্থীর প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেও বিএনপি কোন ইউনিয়ন ও পৌরসভায় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। তবে দুএকটি ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থীত হেভিওয়টে প্রার্থী থাকায় ধারনা করা হচ্ছে ওইসব ইউনিয়নে শেষ পর্যন্ত তারাই নির্বাচনে অংশ নেবেন।
এদিকে নির্বাচন সামনে রেখে নিজ নিজ ইউনিয়নে রাস্তা-ঘাট মেরামত, পুলকালভার্ট সংস্কার, খাল পরিস্কার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দান-অনুদানের মতো সামাজিক কর্মকান্ড করে যাচ্ছেন অনেকে। এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে সম্প্রক্ততা বৃদ্ধি ও দলের নীতি-নির্ধারকদের মন জয় করতে এসব কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছেন। তবে দীর্ঘ ১৭ বছর দলের দূর্দিনে আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে থাকা পরিক্ষিত নেতারা মনোনয়ন পেতে পারেন।
জানা গেছে, মিরসরাই পৌরসভায় সম্ভ্যাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন আতিকুল ইসলাম লতিফী, মহিউদ্দিন, রফিকুল ইসলাম পারভেজ, জাহিদ হুসাইন, নুর মোহাম্মদ, কামরুল হাসান, মো. জাফর উদ্দিন ও আফনান হাসান ইমরান। বারইয়ারহাট পৌরসভা পৌরসভা দিদারুল আলম মিয়াজী, মাঈন উদ্দিন লিটন ও মাওলানা নুরুল হুদা হামিদী। ১ নং করেরহাট সিরাজুল হক, রেজাউল করিম, ইয়াছিন মিজান, রেজাউল করিম নোমান, জহির উদ্দিন বাবলু, ফজলুল মুরাদ, মো. ইকবাল হোসেন, আবুল হোসেন মিয়া সওদাগর, হারুন অর রশিদ, মাওলানা আরিফুল ইসলাম, মাস্টার ফখরুল ইসলাম ভূঁইয়া। ২ নং হিঙ্গুলী ইউনিয়নে নাজমুল হক সোহাগ, মোশারফ হোসেন, রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, হাসানুজ্জামান সানি, নুরুল আলম, রেদোয়ানুল হক, মিজানুর রহমান। ৩ নং জোরারগঞ্জ ইউনিয়নে মাসুকুল আলম সোহান, গোলাম জাকারিয়া, মাওলানা জমির উদ্দিন, আবুল হাসেম, মো. নাসির উদ্দিন। ৪ নং ধুম ইউনিয়নে আলী হায়দার টিপু, মেজবাউল হক মানিক, মোজাম্মেল হোসাইন। ৫ নং ওচমানপুর ইউনিয়নে শাহীনুল ইসলাম স্বপন, এম এইচ লাভলু চৌধুরী, মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী হাসান, শেখ ফরিদ মেম্বার, মোস্তফা চৌধুরী, ইকবাল হোসাইন চৌধুরী। ৬ নং ইছাখালী ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আবছার, মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী, সাব্বির হোসেন, আব্দুল্লাহ আল নোমান, সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আবু তাহের। ৭ নং কাটাছরা ইউনিয়নে আলিউল কবির ইকবাল, নুরুল আলম মেম্বার, নুর উদ্দিন জাহেদ, শওকত আকবর সোহাগ, মো. ওমর শরীফ, মো. ওমর ফারুক, রহমত এলাহি সোহেল, এডভোকেট ফজলুল বারী। ৮ নং দুর্গাপুর ইউনিয়নে জসীম উদ্দিন, প্রফেসর এস.এম সেলিম নিজামী, আজিজুল হক মেম্বার, শামসুদৌহা মামুন, নাজিম উদ্দিন, মনির হোসেন, মোমিন উদ্দিন। ৯ নং সদর ইউনিয়নে মাঈন উদ্দিন কোম্পানী, মুহাম্মদ মনজুর মোর্শেদ ভূঁইয়া কনক, মফিজ উদ্দিন, রবিউল হোসেন রবি, জাহিদুল ইসলাম আরিফ, রেজাউল করিম, সাবেক চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন। ১০ নং মিঠানালা ইউনিয়নে রেজাউর রহমান চৌধুরী সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন চৌধুরী মানিক, তারেক মেম্বার, সরফু উদ্দীন, এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাচ্চু, শাহাদাত হোসেন, নুরুল করিম। ১১ নং মঘাদিয়া ইউনিয়নে মহিউদ্দিন, আলা উদ্দিন, সাইফুর রহমান সাইফুল, আলমগীর, হেলাল উদ্দিন । ১২ নং খৈয়াছরা ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুজ্জামান, আব্দুর রহিম, শাহ মো. ফোরকান উদ্দিন চৌধুরী, আশরাফ উদ্দিন, হারুন অর রশিদ, শিহাব উদ্দিন । ১৩ নং মায়ানী ইউনিয়নে নুর হোসেন মিয়া, সাবেক চেয়ারম্যান আবু মুসা, আশরাফ উদ্দিন,মাছুম বিল্লাহ, সোহাগ ভূঁইয়া। ১৪ নং হাইতকান্দি ইউনিয়নে আশরাফ উদ্দিন, কামাল উদ্দিন, মুসলিম উদ্দিন, মোশারফ হোসেন লিটু চৌধুরী, মোহাম্মদ ছালাউদ্দিন। ১৫ নং ওয়াহেদপুরে সাবেক চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন সেলিম, ইমাম হোসেন বাবলু, তোবারক হোসেন, মো. সবুজ ও এডভোকেট আব্দুল মতিন। ১৬ নং সাহেরখালী ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান নুর হোসেন মিয়া, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, মাঈন উদ্দিন চৌধুরী, সালাউদ্দিন আরিফ, দিদারুল আলম মিলন, বদরুদৌজা চৌধুরী।
এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা জামায়াতের আমীর নুরুল কবির জানান, উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার একটি পৌরসভা ও দুটি ইউনিয়ন ব্যতিত অন্য ইউনিয়নগুলোতে দলের পক্ষ থেকে মেয়র ও চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তবে মিরসরাই থানার ৮টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।
এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আব্দুল আউয়াল চৌধুরী জানান, সম্প্রতি আমাদের সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান চট্টগ্রামে মিটিংয়ে বসেছিলেন। তিনি স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, সকলের ঐক্যমতের ভিত্তিতে একক প্রার্থী যেন ঘোষণা করা হয়। একই কথা আমাদের এমপি মহোদয়েরও। নির্বাচনী তফষিল ঘোষণা হলে আমরা এমপির নির্দেশে আলোচনা করে প্রার্থী ঘোষণা করবো।