মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট পৌরসভা কর্তৃপক্ষ একটি সুপার মার্কেটের তিন তলা নির্মাণের অনুমতি দিলেও জোরপূর্বক রাতে আঁধারে চার তলার কাজ করার অভিযোগ উঠেছে নুরুল আবছার নামে এক ভবন মালিকের বিরুদ্ধে। সোমবার (১৬ মার্চ) রাতে মানুষ যখন শবে কদরের ইবাদত বন্দেগীতে ব্যস্ত তখন চার তলার ঢালাইয়ের কাজ শুরু করে। খবর পেয়ে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এসময় নির্মাণকাজে ব্যবহত মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বারইয়ারহাট পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে ওসামা সুপার মার্কেটের তিন তলার অনুমতি নিয়ে ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বিগত কয়েক মাস ধরে জোরপূর্বকভাবে চার তলা নির্মাণের জন্য তড়িগড়ি শুরু করেন মালিক নুরুল আবছার। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিল্ডিং কোর্ডের নিয়ম না মেনে একাধিক দোকানঘর নির্মাণেরও অভিযোগ রয়েছে। সোমবার রাতে রড বেধে চার তলার ঢালাই দেওয়ার খবর পেয়ে বারইয়ারহাট পৌর প্রশাসক ও মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তারের নির্দেশে, পৌরসভার পৌরসভার প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার সমর মজুমদারের তত্ত¡াবধানে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ কাজ বন্ধ করে দেয়। এসময় নির্মাণকাজে ব্যবহত কিছু মালামাল জব্দ করা হয়েছে। তবে মার্কেটের মালিক ও শ্রমিকদের পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বারইয়ারহাট পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী সমর মজুমদার জানান, ওসামা সুপার মার্কেটটি পৌরসভা থেকে তিন তলা অনুমতি নিয়েছে। কিন্তু মার্কেটে মালিক নুরুল আবছার কোন নিয়ম কানুন না মেনে মার্কেটের নিচে দোকান বাড়ানোর পাশাপাশি এখন ৩ তলা অনুমোদিত বিল্ডিংকে ৪ তলা করার জন্য কাজ করার পায়তারা করছে। তাকে মার্কেটের নিচে এসব অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা সরিয়ে নিতে মৌখিক ভাবে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়ম বহির্ভুতভাবে ৪ তলা নির্মাণ না করতে একাধিকবার বলা হয়। তিনি অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পুনরায় নির্মাণ কাজ না করার কথা জানালেও সোমবার রাতে ১১টা থেকে নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
বিষয়টি পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তারকে জানালে তিনি তাৎক্ষণিক জোরারগঞ্জ থানাকে অবিহিত করলে থানা পুলিশ আসলে মালিক পক্ষের লোকজন পালিয়ে যায়। এসময় কাজে ব্যবহৃত মালামাল জব্দ করা হয়। তিনি আরো জানান, ঈদের পর অবৈধভাবে নির্মাণ করা স্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে ওসামা সুপার মার্কেটের মালিক নুরুল আবছারের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও সংযোগ স্থাপন সম্ভব হয়নি।