‘বীর নিবাস’ পেয়েও কাঁদছে মুক্তিযোদ্ধারা

top Banner

মিরসরাইয়ে অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রধানমন্ত্রীর উপহার ‘বীর নিবাস’ পেয়েও দূর্ভোগে পড়েছে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে এক ঘরে গাদাগাদি করে বসবাস করছে তারা। এনিয়ে ঘর পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বেঁধে দেয়া অতিরিক্ত সময় চলে যাওয়ার পরও এখনো ঘরগুলো বুঝিয়ে দিতে পারেনি তারা। তবে দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে শোকাজ করেছেন বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা জেরিন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দেয়া তথ্যে জানা গেছে, মিরসরাইয়ে ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ঘর নির্মাণের প্রকল্প হাতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণাল। নাম দেয়া হয় ‘বীর নির্বাস’ । মিরসরাই উপজেলার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ২৭৯টি ঘর। এগুলোর মধ্যে তিন ধাপে টেন্ডার দেয়া হয় ২৬৯টি ঘরের। তবে জমি জটিলতায় নিয়ে ২৫টি ঘর নন লে আউট হয়। এগুলো মধ্যে ২০৫টি ঘরে পাম্প বসানো হয়েছে। লিন্টেল সম্পন্ন হয়েছে ১০টি ঘরের। ফিটিংস চলমান রয়েছে ১৪টি বীর নিবাসের।

ফিটিংস শেষ হয়েছে ৮১টি ঘরের। ফিনিসিং চলছে ১০০টি ঘরের। তৃতীয় ধাপের ৩৯টি ঘরের জন্য ঠিকারদার নির্বাচন করা হয়েছে। বীর নিবাস নির্মাণের জন্য ২৫টি প্যাকেজে দরপত্র আহবান করা হয়। ২০২২ সালের জুলাই মাসে এসব প্যাকেজের কাজ শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন মেয়াদে ঠিকাদারদের কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো মেয়াদ শেষ হলেও এখনো ঘরগুলো বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। প্রতিটি ঘরের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ১৪ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।

এদিকে ‘বীর নিবাস’ নির্মাণের জন্য পুরাতন ঘর ভেঙ্গে জায়গা ছেড়ে দেয় মুক্তিযোদ্ধা। পুরাতন ঘর ভেঙ্গে দিয়ে অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করে তারা। তিন মাসের মধ্যে এসব ঘর নির্মাণ করে দেয়া কথা থাকলেও দুই শতাধিক ঘর এখনো নির্মাণ শেষ হয়নি। ফলে দীর্ঘ স্থায়ী ঘর না থাকায় এক ঘরে পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে গাদাগাদি করে থাকছে তারা। অনেক মুক্তিযোদ্ধা জীবিত অবস্থায় ঘরগুলোতে থেকে যেতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে বারইয়ারহাট পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর সোনাপাহাড় গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মনছুর আহম্মদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তিনি পুরাতন মাটির ঘর ভেঙ্গে দিয়ে ছোট্ট একটি টিনের ঘর নির্মাণ করেছে বসবাস করছেন। তাকে প্রধানমন্ত্রী দেয়া ‘বীর নিবাস’ টির ছাদ ঢালাই দেয়া হলেও এখনো কাজ শেষ হয়নি।

এবিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা মনছুর আহম্মদ বলেন, আমি ২০২২ সালের জুন মাসে ঝড় বৃষ্টির মধ্যে পুরাতন ঘর ভেঙ্গে ঠিকাদারকে বুঝিয়ে দিয়েছি। কিন্তু প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ‘বীর নিবাস’ বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। আমি অনেক কষ্টে পরিবার পরিজন নিয়ে ছোট্ট একটি ঘরে বসবাস করছি। এক ঘরে পরিবারের সবাই থাকতে না পারায় এক ছেলের পরিবারকে ভাড়া বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছি।

জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের সহকারী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গণি আহম্মদ ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান মিজানূর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে অনেক খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু ঠিকাদারের গাফিলতিতে ঘরগুলো এখন গলার কাটা হয়েছে। না পারছি ফিরিয়ে দিতে। না পারছি রাখতে।

জানতে চাইলে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কবির আহম্মদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ঘর দিয়েছে প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু সবগুলো ঘর এখনো বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। ফলে পুরাতন ঘর ভেঙ্গে দিয়ে বিপাকে পড়েছে মুক্তিযোদ্ধারা।

এবিষয়ে জানতে চাইলে জোরারগঞ্জ ইউনিয়নে ৮টি ঘরের কাজ পাওয়া মের্সাস আর এন এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, আমি চলতি মাসের ৩০শে জুন পর্যন্ত সময় নিয়েছি। আশা করছি এই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে ঘরগুলো বুঝিয়ে দেবো।

এবিষয়ে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বীর নিবাস নির্মাণ প্রকল্পের সভাপতি মাহফুজা জেরিন বলেন, দুইটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো ঈদুল আজহা পর্যন্ত সময় নিয়েছে। যদি এই সময়ের মধ্যে বুঝিয়ে দিতে না পারে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরো খবর