নিজস্ব প্রতিনিধি:
মিরসরাইয়ে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে করেরহাট ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মাসুদ কালাকে আটক করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। সোমবার (৩১ মার্চ) বিকেলে বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি সড়কের উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের ফরেস্ট অফিস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বুধবার ( ১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি।
আহতরা হলেন সাদ্দাম হোসেন পিন্টু, মো. আনোয়ার, ধলা মিয়া, মোহাম্মদ রাসেল ও মো. ফারুক। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেন। গুরুতর আহত সাদ্দাম হোসেন পিন্টুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, করেরহাট ফরেস্ট অফিস এলাকায় বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি সড়কে দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেট কাঠবোঝাই ট্রাক থেকে এক হাজার টাকা এবং বালুবোঝাই ট্রাক থেকে ৫০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে আসছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ আলমগীর ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মাসুদ কালার নেতৃত্বে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
পরবর্তীতে গত ১২ ফেব্রæয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আলমগীর ও মাসুদ কালাকে সরিয়ে নুর উদ্দিনসহ নতুন একটি গ্রæপকে চাঁদা তোলা শুরু করে। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ ও উত্তেজনা চলছিল।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার বিকেলে চাঁদা তোলার দায়িত্বে থাকা মো. ফারুকের ওপর আলমগীর গ্রæপের লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ফারুক আহত হলে তার সমর্থকরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে লাঠি, রড ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা যায় এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে রাতেই অভিযান চালিয়ে মাসুদ কালাকে আটক করা হয়।
ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ আলমগীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা কোনো চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নই। প্রতিপক্ষ নিজেরা আধিপত্য বিস্তারের জন্য আমাদের নাম ব্যবহার করে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘এই সড়কে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি চলছে। ট্রাক চলাচল করলেই টাকা দিতে হয়। এতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক বলেন, ‘করেরহাট ফরেস্ট অফিস এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মাসুদ নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে জোরারগঞ্জ থানায় একটি দস্যুতার মামলা রয়েছে। কোন অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি। জড়িত অন্যদেরও আটকের চেষ্টা চলছে।’