মিরসরাইয়ে অবৈধভাবে পাহাড় কাটায় বাধা দেওয়ায় বনবিভাগের লোকজনের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের সাইবেনিখিল পাহাড়ে শ্যালো মেশিন বসিয়ে পাহাড় কাটার সময় অভিযান পরিচালনা করতে গেলে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার ঘটনায় জোরারগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। হামলায় আহতরা হলেন স্টেশন কর্মকর্তা,করেরহাট বিট কাম চেক স্টেশন মো. আলাল উদ্দিন, বন প্রহরী মো. এনামুল হক চৌধুরী, মো. রুহুল আমিন ও শাহ আলম। আহতরা প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের স্টেশন কর্মকর্তা, করেরহাট বিট কাম চেক স্টেশন বলেন, করেরহাট রেঞ্জের আওতাধীন সাইবেনেরখিল এলাকায় পাহাড়ে শ্যালো মেশিন বসিয়ে পাহাড় কাটার খবর পেয়ে আমি সহ চার সহকর্মী অভিযানে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি মাসুদ কালা নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে পাহাড় কেটে বালি নিয়ে যাচ্ছে। তখন আমরা বাধা দিতে গেলে তারা আমাদের উপর হামলা করে। আমি এখন থানায় রয়েছি, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক, করেরহাট ও নারায়নহাট মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, `বুধবার রাতে করেরহাটের সাইবিনেরখিল এলাকায় অভিযানে গেলে বনখেকোরা হঠাৎ লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের বনকর্মীর উপর হামলা চালায়। এতে চারজন আহত হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, `সরকারি কর্মকর্তাদের হামলায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে বন-আইনে মামলা দায়ের করা হচ্ছে।’
জানা গেছে, করেরহাট ইউনিয়নের সাইবেনিখিল এলাকায় পাহাড় কাটার অপরাধে গত ৩ নভেম্বর নভেম্বর চট্টগ্রাম জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের রিসার্চ অফিসার মো. আশরাফ উদ্দিন বাদি হয়ে ৬ নামে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আব্দুল হালিম বলেন, `করেরহাটে বন কর্মকর্তাদের উপর হামলার ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। মামলার পর অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
সহকারী পুলিশ সুপার (মিরসরাই সার্কেল) মো. নাদিম হায়দার চৌধুরী বলেন, `সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অধিকার কারো নেই। মামলা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে মাসুদ কালা বলেন,` বুধবার রাত ১০টার সময় আমার মোবাইলে একটি কল আসে। এরপর এলাকায় দেখি বন কর্মকর্তারা তাদের সাথে এলাকায় বাসীর বাগ্বিতণ্ডা হচ্ছে। আমার নেতৃত্বে হামলার বিষয়টি সত্য নয়। পাহাড় কেটে বালু উত্তোলনের বিষয়টিও অস্বীকার করেন তিনি।’