স্বাধীনতার একান্ন বছরেও মেলেনি শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি

top Banner

আজমল হোসেন: একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মিলিটারীর গুলিতে শহিদ হন একই পরিবারে পিতা পুত্র দুজন। স্টেশনমাস্টার পিতা জগদিশ মাস্টারের (৭০) খোঁজে বের হন পুত্র বাদল রায় (৪০)। বাড়ি ফেরার পথে মিলিটারীর গুলিতে ঝাঁঝড়া হয়ে যায় দুটি তরতাজা দেহ। বাড়ি ফিরেছে দুটি রক্তাক্ত লাশ।


একই পরিবারে পিতা-পুত্র দুজন মিলিটারীর গুলিতে শহীদ হলেও বিজয়ের ৫১ বছরেও মেলেনী শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি। মুক্তিযোদ্ধার তালিকায়ও ওঠেনি জগদিশ মাস্টার ও বাদল রায়ের নাম।


মিরসরাই সদর ইউনিয়নের মধ্যম তালবাড়িয়া জগদিশ মাস্টার বাড়িতে গিয়ে চোখে পড়ে শহীদ পরিবারের দৈন্যদশা। জীর্ণশীর্ণ ঘরের টিনের চাল বেয়ে পড়ছে অনর্গল পানি। অন্যের বর্গা জমিতে কৃষিকাজ করে সংসার চালাচ্ছেন শহীদ বাদল রায়ের পুত্র ও শহীদ জগদীশ মাস্টারের নাতি উৎপল রায়। বাবা শহীদ হওয়ার সময় উৎপল রায়ের বয়স ছিলো মাত্র ৬ মাস।


জানা যায়, উৎপল রায়ের দাদা জগদীশ মাস্টার রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নির্দিষ্ট সময়ের পরও তার বাড়ি ফিরতে দেরি হচ্ছে দেখে বাবার খোঁজে বের হন পুত্র বাদল রায়। এবার পিতাপুত্র কারোরই ফেরা হয়নি ঘরে। রেললাইনে পাওয়া যায় তাদের রক্তাক্ত দেহ।


মুক্তিযুদ্ধা ও শহীদ পরিবারের স্বীকৃতির জন্য কোনরূপ চেষ্টা করেছেন কিনা জানতে চাইলে শহীদ জগদীশ মাস্টারের নাতি ও শহীদ বাদল রায়ের পুত্র উৎপল রায় বলেন, বাবাকে যখন মিলিটারীরা গুলি করে হত্যা করে তখন আমি ৬ মাসের শিশু। অমানুষিক কষ্টে আমার মা আমাকে বড় করেছেন। অন্যের জমিতে চাষ করে কোনমতে সংসার চালাচ্ছি। স্বীকৃতির জন্য চেষ্টা তদবিরও করিনি আমরা। নুন আনতে পান্তা ফুরায় আমাদের। তবে আমি আমার বাবা ও দাদার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি প্রত্যাশা করি। পাশাপাশি আমাদের পরিবারকে শহীদ পরিবার স্বীকৃতি দেয়া হোক এ দাবি আমার।

মধ্য তালবাড়িয়া এলাকার মোহাম্মদ মিয়া নামের একজন বলেন, উৎপলের বাবা ও দাদা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে যুদ্ধে শহিদ হওয়ার বিষয়টি সত্য। উৎপলের দাদাকে নিয়ে যখন তার বাবা বাড়ি ফিরছিলেন তখন লোহারপুল এলাকায় মিলিটারিরা গুলি করে তাদের দুজনকে হত্যা করে।

আরো খবর