চলমান রিপোর্ট :
‘নির্বাচনের পূর্বে মাঠের আন্দোলনে বিরোধী পক্ষ থাকবে এটা স্বাভাবিক, কিন্তু দিন শেষে সবাইকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা উচিৎ। আর যদি বিএনপি নির্বাচনে না আসে এটি হবে তাদের জন্য আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত। ২৮ অক্টোবর বিএনপি এত লোকের সমাগম করলো কিন্তু দিন শেষে ফসল তাদের ঘরে তুলতে পারেনি। তাহলে এসব করে লাভ কি।’
শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে চলমান রাজনীতি ও আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল মিরসরাই উপজেলা কমিটির ব্যানারে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া।
বিএনপির আন্দোলনকে উদ্দেশ্য করে দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘নির্বাচনকে আন্দোলনের অংশ করে বিএনপির ভোট যাওয়া উচিত। নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতা হস্তান্তরের অন্য কোন উপায় নেয়। নির্বাচনী শিডিউল ঘোষণা করলে নিবন্ধিত অনেক দল অংশ নিবে। আন্দোলন করা বিএনপির গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু তারা আন্দোলনের নামে ধ্বংসযজ্ঞ করে দেশে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। রিজিম চেইঞ্জ করতে চাচ্ছে। গণঅভ্যুত্থান বা সারা দেশ কলাপস (বন্ধ) করে দিলে সরকার বাধ্য হতো তাদের দাবী আদায়ে। কিন্তু সরকার উৎখাত করার মতো মাজার জোর বিরোধী দলের নেই। তাই আমি তাদের বলবো মান থাকতে কীর্তন ক্ষ্যান্ত দেন।’
দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি নিয়ে তিনি বলেন, সরকার সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মী হয়ে গেছে। আমরা মনে করি কায়েমি স্বার্থবাজ মহল সরকারকে চাপে ফেলতে এটি করছে। দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয় সীমার মধ্যে আনার জন্য আমরা সরকারকে বলেছি।
সম্প্রতি মালদ্বীপের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা তুলে ধরে দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘এইতো সেদিন মালদ্বীপে নির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে বিরোধী দল নির্বাচিত হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল তা মেনে নিয়েছে। বাংলাদেশেও অনুরূপভাবে সংবিধান মেনে যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’
১৪ দলীয় জোটের শরিক দলের শীর্ষ এ নেতা আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই আসন থেকে মনোনয়ন চাওয়ার বিষয়টি পূর্নব্যক্ত করে বলেন, ‘চট্টগ্রামের মাটি ও মানুষের নেতা আমাদের মোশাররফ ভাই। যিনি মিরসরাই আসন থেকে সাত বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এবার তিনি নিজেই নির্বাচন করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। অতএব তিনি নির্বাচন না করলে সে ক্ষেত্রে আমি নিজেকে জোটের মনোনয়নের যোগ্য দাবিদার বলে মনে করছি। মহাজোট থেকে সারাদেশে সাম্যবাদী দলের পক্ষ হয়ে শুধুমাত্র মিরসরাই আসনে আমি মনোনয়ন চাইবো। আশা করি নেত্রী তা মেনে নিবেন।’
মিরসরাই আসনে জোটের হয়ে সম্ভাব্য অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উদ্দেশ্যে দিলীপ বড়–য়া বলেন, ‘রাজনীতিই আমার পেশা। এর বাইরে আমি কিছু করিনি। জীবনে এ পর্যায়ে এসে আমার নিজের এলাকা থেকে নির্বাচন করবো এটা আমার রাজনীতির প্রাপ্তি মনে করছি। আমি আশা করবো আমাদের জোট থেকে অপরাপর যেসকল বন্ধুরা সম্ভাব্য প্রার্থী হবেন তারা সিনিয়র হিসেবে আমাকে সমর্থন করবে। আমি শিল্পমন্ত্রী থাকা অবস্থায় মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল, মিরসরাইয়ে বেসিক শিল্প নগরী স্থাপন করি। যা এখন দৃশ্যমান। নিজামপুর সরকারী কলেজে অনার্স, মাস্টার্স কোর্স চালু করেছি। আগামীতে এমপি নির্বাচিত হলে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি মিরসরাইয়ে আমি অভূতপূর্ণ উন্নয়ন করবো।’
সভায় অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য এডভোকেট দীর্ঘতম বড়ুয়া ও মিরসরাই উপজেলা সাম্যবাদী দলের সভাপতি রণজিত বড়ুয়া প্রমুখ।