দেশের যে কোনো ক্রান্তিলগ্নে অসীম সাহস নিয়ে এগিয়ে আসেন হিতকরীয়ানরা

top Banner

মিরসরাইয়ে যতগুলো সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আছে হিতকরী অন্যতম বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। তারা বলেন, দেশের যেকোন ক্রান্তিলগ্ন তথা করোনাকালীন সময়, বন্যা কিংবা যেকোন জরুরী প্রয়োজনে হিতকরীর ভুমিকা অপরিসীম। আশাকরী আগামীতেও তাদের জনকল্যাণকর কাজগুলো অব্যাহত থাকবে। শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী উপজেলার অন্যতম সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিতকরী’র নানা আয়োজনে ২৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও পুনর্মিলনী আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কর্মসূচির মধ্যে উক্ত দিন সকালে সংগঠনটির স্থায়ী কমিটির সাধারণ সভা ও কমিটি পুনর্গঠন হয়। দুপুরে প্রীতি ভোজের আয়োজন শেষে বিকাল ৩ টায় উপজেলার সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর পুনর্মিলনী সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে বিকাল সাড়ে ৪ টায় সীরাতুন্নবী (সঃ) উপলক্ষে সীরাত মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় বক্তারা বলেন, সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে বেশির ভাগ সময় রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিপক্ষের মত আচরন করে। অথচ খেয়াল করলে দেখবেন অধিকাংশ দক্ষ ও খ্যাতিমান রাজনীতিবিদের হাতেখড়ি হলো কোন না কোন সামাজিক সংগঠন।

অন্য একজন বক্তা বলেন, সামাজিক প্লাটফর্মের চরিত্রই হলো অরাজনৈতিক। এদের কাজের প্রকৃতিও হলো অরাজনৈতিক। সরকারগুলোও তাদের পলিসি বাস্তবায়নে সামাজিক সংগঠনগুলোর সহায়তা নেয়। আমরা আশাবাদী আগামীর বাংলাদেশে দেশের আর্থসামাজিক মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালনের মধ্যদিয়ে অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠবে সামাজিক সংগঠনগুলো। গত ২৩ বছরে অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে হিতকরী আর্ত পীড়িত ও সাধারন মানুষের হৃদয়ে আস্থার জায়গা করে নিয়েছে। আসা করছি তাদের আগামীর পথ আরো মসৃণ হবে।

হিতকরী’র সভাপতি জহির উদ্দিন রনির সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নুর ছাপা নিলয়ের সঞ্চালনায় এ সময় বক্তব্য রাখেন, মায়ানী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মুসা মিয়া, প্রজন্ম মিরসরাইয়ের পরিচালক ইউনুস নূরী, উদয়ন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম শাহীন, আবুল বশর স্মৃতি সংসদ ও পাঠাগারের পরিচালক শরফু উদ্দিন, মিরসরাই এডুকেশন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক প্রমুখ। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর, চট্টগ্রাম উত্তরজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি মো. আলা উদ্দিন, মঘাদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মো. হেলাল উদ্দিন, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন, জামায়াতে ইসলামী মায়ানী ইউনিয়ন শাখার সভাপতি শাহাবুদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, অধম্য যুব সংঘের পরিচালক এনামুল হক, সোনালী স্বপ্নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মঈনুল হোসেন টিপু, জাগ্রত প্রতিভার সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম মর্তুজা, অভিযান ক্লাবের সোলায়মান উদ্দিন বাদশা, অনির্বাণ যুব ক্লাবের সভাপতি সরোয়ার উদ্দিন, আনন্দ সংঘের এহসানুল কিবরিয়া, মিরসরাই সমাজ কল্যান পরিষদের সালা উদ্দিনসহ নানা শ্রেনী পেশার মানুষ।

বিকাল সাড়ে ৪টায় আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা রবিউল হোসেন নিজামী ও আবুতোরাব কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা এমদাদুল হক নিজামী নবী (সঃ) এর সিরাত বিষয়ক আলোচনা করেন। আলোচনা শেষে নবীজি (সঃ) এর সিরাত নিয়ে উপস্থিতিদের মধ্যে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সবশেষে বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।

জাতীয়তাবাদী দলের একজন সংগঠক ওমর ফারুক নামের একজন স্থানীয় সিনিয়র নেতা হিতকরীকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে লিখেন, সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কি, কেমন তাদের কাজ কি? সব কিছুর সমাধান পেয়েছি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিতকরীর কাজ দেখে, দুই যুগ নয়, যুগ যুগ বহুযুগ ধরে সমাজ সেবার দৃষ্টান্ত দেখিয়ে মানুষের হৃদয়ে আরো বেশী জায়গা করে নিবে হিতকরী। এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। ২৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন পরিষদের আহবায়ক আব্দুল কাইয়ুম রনি বলেন, সবার ভালোবাসা বুদ্ধি পরামর্শ দোয়া আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে মহৎ উদ্দেশ্যে চলে বহু স্বপ্নবাজ মেধাবীর সামাজিক সংগঠন হিতকরী। হিতকরী যতটুকু ভালো কিছু করতে পেরেছে সবই দল মত নির্বিশেষে মিরসরাইবাসির অবদান। যার যে অবদান হিতকরীয়ানরা সবসময় আভ্যন্তরীন আলোচনায় কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরন করে। বাকি যে টুকু ব্যর্থতা সেটা একান্তই আমাদের নিজেরই। সবসময় আপনারা আমাদের বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে সাথে ছিলেন, ভবিষ্যতেও পাশে রাখবেন এই প্রত্যাশা আমাদের।

আরো খবর