বন্যা কিংবা অগ্নিকাণ্ড যেখানে মানুষের বিপদ সেখানে দল বেঁধে ছুড়ে চলেন একদল যুবক। একতাবদ্ধ এই যুবকরা তাদের একতার নাম নিয়েছেন হিতকরী। মানুষের বিপদে যেন তারা মানবতার টানে ছুটে চলে অসহায়ের খোঁজে । ঠিক যেন তারা অসহায় মানুষের পরম বন্ধু। মিরসরাই উপজেলা জুড়ে তাদের পরিচয় সামাজিক সেচ্ছাসেবী সংগঠন হিতকরী। ফেনী ও মিরসরাইয়ে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় মানুষের উদ্ধার , ত্রান, পুনর্বাসন, কৃষকদের হাতে তুলে দিয়েছেন ধানের বীজ। বাড়িয়ে দিয়েছেন বিপদের মুখে মানুষেরে প্রতি সাহায্যের হাত।
গতকাল বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের ইসলামপুর দারবক্স ভুঁইয়া বাড়িতে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার আগেই ঘটে বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিটের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। এতে নিঃস্ব হয়ে যায় ওই বাড়ির ছয়টি পরিবার। আগুনে পুড়ে যায় প্রয়োজনীয় কাগজ আসবাবপত্র ও যাবতীয় মালামাল। এই পরিস্থিতি দিশেহারা ওই পরিবারগুলো কোথায় যাবেন কি করবেন সবাই তো ক্ষতিগ্রস্থ কে দাঁড়াবে পাশে। এই মুহূর্তে আশার আলো হয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন অসহায় মানুষের পরম বন্ধু হিতকরীয়ানরা।
বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ৬ টি পরিবারের মাঝে নিত্য প্রয়োজনীয় হাড়ি-পাতিলের ১০ টি আইটেম, প্রত্যেক পরিবারের সদস্যর জন্য শাড়ী-লুঙ্গি, ত্রিপল, মোমবাতি ও ধানবীজসহ অন্যান্য সামগ্রী তুলে দেন সংগঠনের সদস্যরা। কঠিন সময়ে ঘুরে দাঁড়ানো কিছু অবলম্বন পেয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে ও হাসি ফুটেছে পরিবার গুলোর মাঝে।
হিতকরী’র সভাপতি জহির উদ্দিন রনি বলেন, আমরা সংগঠন করছি মানুষের উপকারে মানুষের পাশে দাড়ানোর জন্য। আমাদের সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা হয় ২০০১ সালে। যার স্লোগান হলো ‘উপকার করো, উপকৃত হবে’ সে লক্ষ্যে আমরা কাজ কযাচ্ছি। আপনারা জানেন যে, গত কিছুদিন আগে দেশের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা বয়ে গেছে মিরসরাই, ফেনী ও কুমিল্লায়। আমরা সদস্যরা মিলে আটকে পড়াদের উদ্ধারসহ পরবর্তীতে ত্রাণ সামগ্রী ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছি মিরসরাই ও ফেনীতে। এছাড়া আমরা এখন পূর্নবাসনে কাজ করছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঘরে ঘরে ধানবীজ পৌঁছে দিচ্ছি। ইসলামপুর এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ৬ টি পরিবারের মাঝে ঘুরে দাঁড়ানো সামান্য অবলম্বন পৌঁছে দিয়েছি।