ইউএনওর নিষ্ক্রিয়তায় সরকারি রাস্তা নির্মাণে বাধার অভিযোগ, প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচীর ডাক

top Banner

চলমান রিপোর্ট
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে উপজেলা প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় সরকারি রাস্তা পুনর্নির্মাণ কাজ দীর্ঘদিন ধরে বাধাগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এলজিসিআরআরপি প্রকল্পের আওতায় আরসিসি রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও একটি পক্ষের বিতর্কিত জমি দাবি, চাঁদাবাজি, প্রাণনাশের হুমকি ও মিথ্যা মামলার অভিযোগে স্থানীয়দের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

আদালতের দুই স্তরেই নির্মাণে বাধা দেওয়ার আবেদন নামঞ্জুর হলেও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে। একটি পক্ষ উত্তরাধিকার সূত্রে এক শতক জমির মালিকানা দাবি করে কাজ বন্ধ করতে চাইলেও স্থানীয় ও সিনিয়র আদালত উভয়ই তাদের আবেদন নামঞ্জুর করেন। ফলে রাস্তা নির্মাণে আর কোনো বাধা নেই।

সম্প্রতি এলজিসিআরআরপি’ প্রকল্পের আওতায় মিরসরাই পৌরসভা কর্তৃপক্ষ সদর ভূমি অফিস সংলগ্ন রাস্তাটি পুনঃনির্মাণ করতে গেলে একটি পক্ষের উত্তরাধিকারী সূত্রে এক(১) শতক জায়গা রয়েছে মর্মে দাবি তুলে রাস্তা নির্মাণ কাজে বাধা দেন।

স্থানীয়রা জানান, চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার সদর ভূমি অফিস সংলগ্ন ইটের নির্মিত রাস্তাটি শত বৎসর পুরানো বি. এস.জরিপ সিটভুক্ত চলাচলের পথ যা বিএস ৮১৮ নং খতিয়ানে ৫৬১০২ নং দাগে চলাচলের পথ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে । উক্ত রাস্তা দিয়ে আশপাশের বাসিন্দা ছাড়াও প্রতিদিন শত শত সর্বসাধারণ ও যানবাহন চলাচল করে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কর্তৃক ইতোপূর্বে উক্ত রাস্তাটি ইটে নির্মাণ করা হয়েছিল।

সম্প্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এর এলজিসিআরআরপি’ প্রকল্পের আওতায় মিরসরাই পৌরসভা কর্তৃপক্ষ পুনরায় উক্ত রাস্তাটি আর. সি. সি. দ্বারা নির্মাণের জন্য ই-টেন্ডার ইস্যু করেন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রাস্তা নির্মাণ কাজ শুরু করলে, একটি পক্ষ নির্মাণ কাজে বাধা দেন। পক্ষটির দাবি উক্ত রাস্তার মধ্যে তাদের এক শতক উত্তরাধিকার সূত্রে জায়গা রয়েছে। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বাদীপক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে তাদের দাবি নাকচ করে দেন।

পরবর্তীতে বাদীপক্ষ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক চট্টগ্রাম ও মিরসরাই পৌরসভা প্রশাসককে বিবাদী করে রাস্তা নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার জন্য আদালতে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন ( মিরসরাই সহকারি জজ আদালত, মামলা নং ১১৯/২০২৪)। আদালত বাদি পক্ষের নিষেধাজ্ঞার আবেদন নামঞ্জুর করে গত ২২ জানুয়ারি আদেশ দেন ( আদেশ নং- ০৬।
আদালত উক্ত আদেশে উল্লেখ করেন, বাদীপক্ষের উক্ত রাস্তায় কোন স্বত্ত্ব নেই”। উক্ত আদেশে আরো উল্লেখ করা হয় সরকারি রাস্তা নির্মাণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে , এতে রাষ্ট্রের উন্নয়নকার্য বাধাগ্রস্ত হয় ।

পরবর্তীতে বাদীপক্ষ উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে সিনিয়র জেলা জজ আদালতে সিভিল রিভিশন দাখিল করেন ( অতিরিক্ত জেলা জজ ৭ আদালত, মামলা নং ৬৫/২০২৫)। জেলা জজ আদালত ১৯ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ১২ নং আদেশ মূলে উক্ত সিভিল রিভিশনের আবেদন খারিজ বা নামঞ্জুর করে দেন এবং নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রাস্তাটি নির্মাণের লক্ষ্যে রাস্তার ইট উত্তোলন ও মাটি খনন করায় নির্মানাধীন রাস্তাটিতে পানি জমে থাকায় সার্বক্ষণ কাদামক্ত হয়ে থাকে । এতে এলাকাবাসীর বিশেষ করে স্কুল গামী ছাত্র-ছাত্রীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ বিষয়ে মিরসরাই ইউএনও মহোদয়কে একাধিকবার অবহিত করার পরও উনি কোন কার্যকরী পদক্ষেপ করেননি। বরং ইউএনও মহোদয়ের একটাই কথা , আপনারা এলাকাবাসী নেগোসিয়েশন করুন, আমি কোন ঝামেলা নিতে পারবো না”

এদিকে রাস্তার নাটক সাজিয়ে চাঁদাবাজি, নির্যাতন, প্রাণনাশের হুমকী মিথ্যা মামলা, হামলা ভূমি জবর দখলের চেষ্টার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবীতে আগামী ২৩ ডিসেম্বর সকাল ১১ টায় মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচী পালন করবে প্রিয় দে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষে এই কর্মসূচী পালনের উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন কর আইনজীবি প্রিয় দে।

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোমাইয়া আক্তারের সরকারী মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলে তিনি সাড়া দেননি।

আরো খবর