August 6, 2020

CHALAMAN

Mirsarai

মাথায় মামলা মাঠে গ্রুপিং নিয়ে সক্রিয় তারা

মুহাম্মদ নাজমুল হাসান

মিরসরাই উপজেলার এক সময়ের প্রভাবশালী ছাত্রদল নেতাদের প্রায় সকলেই এখনো সক্রিয় রয়েছেন রাজনীতিতে। থানায় মামলা, মাঠের রাজনীতিতে বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষের হুমকী-ধমকীর পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে গ্রুপিং তবুও জাতীয়তাবাদী আদর্শের জন্য কাজ করে চলেছেন তারা। উপজেলায় বিবাদমান গ্রুপগুলোর সামনে অথবা নেপথ্যে নেতৃত্বে রয়েছেন মূলত সাবেক এই ছাত্রনেতারাই। মিরসরাই ছাত্রদলের অতীতের ঐতিহ্য ক্রমশ ম্লান হলেও সাবেক নেতারা এখনো স্বপ্ন দেখছেন ঘুরে দাঁড়ানোর।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলমিরসরাই উপজেলার জনা দশেক সাবেক ছাত্রনেতার সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তাদের সাথে আলাপের অনুলিখন চলমান মিরসরাই’র পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

মিরসরাইতে ছাত্রদলকে শক্তিশালি হিসেবে দাঁড় করাতে যাদের ভূমিকা বেশী তাদের মধ্যে অন্যতম শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী প্রকাশ শাহীদ চৌধুরী। ১৯৮৭ সালের অক্টোবরে সম্মেলনের মাধ্যমে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। ছাত্রদলের রাজনীতির পর তিনি যুবদলের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত। বর্তমানের তিনি মিরসরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বেও রয়েছেন এই নেতা। মিরসরাইয়ের সাংসদ হওয়ার দৌঁড়ে তিনি আলোচনায় ছিলেন।

মিরসরাই এবং চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে ৩ টি মামলা। ২০১৯ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে চট্টগ্রামে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করার সময় গ্রেফতার হয়ে আড়াই মাস কারাগারে ছিলেন এই নেতা। করোনাকালীন সময়ে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী দলীয়ভাবে একটি কমিটি করা হয়। সেই কমিটির তিনি যুগ্ম আহবায়ক। এই কমিটির মাধ্যমে মিরসরাইয়ের ১৬ ইউনিয়ন এবং দুটি পৌরসভায় নগদ অর্থ, এবং ১০ হাজার মানুষকে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এছাড়া তিনি ব্যক্তিগতভাবে সাহেরখালিতে ৩০০ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ করেন।

১৯৯১ সালে উপজেলা ছাত্রদলের দায়িত্বে আসেন সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী মিঠু এবং সাধারণ সম্পাদক মাঈন উদ্দিন মাহমুদ। মিঠু বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী। প্রবাসে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাথে তিনি সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছেন।

তিনি বলেন, আমি জাতীয়তাবাদী আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত নই বরং আরো বেশী সক্রিয়। আমার স্থানীয় এবং জাতীয় সব শ্রেনীর নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। দলের পরিচয়ে সামাজিকভাবে বিভিন্ন কর্মকান্ড করেন বলেও জানান তিনি।

এই কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাঈন উদ্দিন মাহমুদ দুই মেয়াদে আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত। এই সময়ে তাঁর সাথে পালাক্রমে সদস্য সচিব ছিলেন গাজী নিজাম উদ্দিন ও কমিশনার নিজাম উদ্দিন।

১৯৯৮ সালে মাঈন উদ্দিন মাহমুদকে সভাপতি এবং ছাত্রনেতা আমান উল্যাহ আমানকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি কমিটি হলেও সেটি এক বছরের বেশী সময় টিকেনি। ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে মাঈন উদ্দিন মাহমুদ বিএনপি থেকে নির্বাচন করে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান।মিরসরাই থানায় ১৮ টি রাজনৈতিক মামলার এই আসামি করোনার এই সময়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে দলীয় নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক সাহায্য সহযোগীতা করে চলেছেন।

১৯৯৮ গঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমান উল্যাহ আমান রাজনীতিতে ফ্রন্টলাইনে না থাকলেও দলীয় কর্মসূচী এবং দলীয় ফোরামে বেশ সক্রিয় রয়েছেন। ’৮৯-৯০ সর্বদলীয় ছাত্রআন্দোলনে ছাত্রদলের প্রতিনিধিত্বকারী তুখোড় এই ছাত্রনেতা বর্তমানে চট্টগ্রাম উত্তরজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

১৯৯৮ সালের শেষ দিকে সম্মেলনের মাধ্যমে নাছির-নাছির কমিটি গঠন করা হয়।
সেই কমিটির সভাপতি ৯ নং সদর ইউনিয়নের নাছির উদ্দিন রাজনীতিতে অনেকটা নিষ্ক্রিয় হলেও পদ পদবীতে সক্রিয়। তিনি ২০১৩ সাল থেকে আজঅব্দি মিরসরাই উপজেলা স্বেচ্চাসেবক দলের আহবায়ক এবং চট্টগ্রাম উত্তরজেলা মৎসজীবী দলের যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকার পেছনে কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বর্তমান হাজিরা এবং ফেসবুক ভিত্তিক রাজনীতি তাঁর পছন্দ নয়।

একই কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিরসরাই পৌরসদরের নাছির উদ্দিন উপজেলাজুড়ে স্বচ্ছ এবং মেধাবী ছাত্রনেতা হিসেবে এখনো সমাদৃত। তিনি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সফলতার সাথে। রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডেও তার সরব উপস্থিতি ছিলো। মিরসরাই স্কুল মাঠে একুশে বই মেলা উদযাপন পরিষদের মহাসচিব সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনে রাজনীতির পাশাপাশি দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তবে সরকার বদলের পর তিনি ২২ টি মামলার আসামী হয়েছেন। এখনো বেশকিছু মামলার নিয়মিত হাজিরা দিতে হয় এক সময়ের তুখোড় সাবেক এই ছাত্রনেতাকে।

নিকট সময়ে ছাত্রদলের সবচেয়ে আলোচিত এবং সক্রিয় কমিটি ছিলো মোঃ সরওয়ার উদ্দিন সেলিম এবং দিদারুল আলম মিয়াজীর কমিটি। ২০০১ সালে এই দু’জনকে আহবায়ক কমিটির নেতৃত্বে দেওয়া হলেও পরবর্তী বছরের ৭ জুলাই থেকে ২০১০ সালের ৬ জুন পর্যন্ত সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এই দুই ছাত্রনেতা।

উপজেলা ছাত্রদলের দায়িত্ব হস্তান্তরের পরপরই উত্তর জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক নির্বাচিত হন সরওয়ার উদ্দিন সেলিম। ২০১০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের ৩ জুন পর্যন্ত তিনি ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সর্বশেষ বিভাগীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

মিরসরাই, জোরারগঞ্জ এবং কোতোয়ালী থানায় ১৮ টি মামলা মাথায় নিয়ে একাধিকবার কারাবরণকারী এই নেতা বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম উত্তরজেলা স্বেচ্চাসেবক দলের আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

একই কমিটির সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মিয়াজীও রাজনীতিতে সক্রিয়। বর্তমানে তিনি বারইয়ারহাট পৌর বিএনপির আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।

বারইয়ারহাট কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক এই ভিপি ৩৩ টি রাজনৈতিক মামলার আসামি। গত ১০ বছরে ৫ বার কারাবরণ করেছেন বলে জানান তিনি ।

করোনাকালীন সময়ে গত ৬ এপ্রিল পৌর এলাকায় ৩০০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেন তিনি। এছাড়া গত রমজানের শেষ দিকে উপজেলাজুড়ে দলীয়ভাবে ৫০০০ পরিবারকে খাদ্য ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেন।

২০১০ সালের ৭ই জুন নেতা কর্মীদের প্রত্যক্ষ ভোটে জাহেদুল আফসার জুয়েলকে আহবায়ক এবং ফোরকান উদ্দিন চৌধুরীকে সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক নির্বাচিত হন।
এই কমিটি ২০১২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম উত্তরজেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক ৭ টি মামলায় তিনি ২ বার কারাবরণ করেন বলে জানান।

করোনাকালে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি, জীবানু নাশক স্প্রে করা, মাস্ক বিতরণ, খাদ্য বিতরণ করেন তিনি।

২০১২ সালে ছাত্রদলের নতুন নেত্বেত্বে আসেন আহবায়ক আদিল মাহমুদ চৌধুরী এবং সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ফোরকান উদ্দিন চৌধুরী। ২০১৪ সালের ১০ অক্টোবর স্থানীয় সাহেরখালি বাজারে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্বারা আদিল মাহমুদ চৌধুরী খুন হওয়ার আগ পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে দলের কাযক্রম পরিচালনা করেছিলেন মেধাবী এই ছাত্রনেতা।

পরপর দুই কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ফোরকান উদ্দিন চৌধুরীর বর্তমানে কোন পদ পদবী না থাকলেও রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। মিরসরাই থানায় ৮ টি মামলা এবং ১ বার কারাবরণ করেছেন বলে জানান তিনি।

করোনারকালীন সময়ে দলীয় ও ব্যক্তিগত ভাবে সাধারণ মানুষ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন।

downloadfilmterbaru.xyz bigoporn.club bok3p.site sablonpontianak.com

Double Categories Posts 1

Double Categories Posts 2