July 8, 2020

CHALAMAN

Mirsarai

মিরসরাইয়ে বাড়ছে করোনা রোগী কীট সংকটে হচ্ছে না পর্যাপ্ত পরীক্ষা

মোহাম্মদ ইউসুফ:
মিরসরাইয়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। গত ১৮ এপ্রিল উপজেলায় প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়। সর্বশেষ ১৭ জুন পর্যন্ত উপজেলায় ৩৮ জন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরেছেন ১৩ জন। হাসপাতালে আইসুলেশনে আছেন ১১ জন। হোম কোয়ারান্টাইনে আছেন ১৪ জন। ১৭ জুন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৩ জন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী। এছাড়া উপজেলায় মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৭৩ জনের। রিপোর্ট পাওয়া গেছে ১৪৭ জনের। গত ১৪জুন চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন এর কার্যালয় মিরসরাই উপজেলাকে সবুজ জোন হিসেবে ঘোষণা করেছে। এদিকে সামাজিক দুরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে উপজেলায় বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।


জানা গেছে, দেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়। ১৮ এপ্রিল মিরসরাইয়ে প্রথম একজন মহিলা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। এরপর সারা দেশের সাথে ন্যায় মিরসরাইতেও একের পর এক রোগী বাড়তে থাকে। গত ৩ মে মিরসরাইয়ে ছিলো ২ জন, ৩ জুন ছিলো ১৫ জন, আর সর্বশেষ ১৭ জুন ৩৮ জন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছেন। গত ৩০ মে লকডাউন তুলে দেওয়ার পর সীমিত পরিসরে যানবাহন চলাচল, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান খোলার পর হাটবাজারে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। উপজেলার বারইয়ারহাট-বড়দারোগারহাট পর্যন্ত চলাচলকারী সেইফ লাইনগুলোর যাত্রীদের মাঝে নেই কোন সামাজিক দুরত্ব। অনেক চালক মাস্ক পকেটে রাখলেও মুখে লাগান না। আবার মুখে লাগালেও তা থাকে ঠোটের নীচে। এতে করে চালকের মাধ্যমেও ভাইরাস ছড়ানোর শঙ্কা রয়েছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে চলাচলকারী সিএনজি-অটোরিক্সা চালকদেরও একই অবস্থা। বিভিন্ন হাট-বাজারে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা প্রশাসনের নেই কোন তৎপরতা। কাঁচাবাজারগুলোতে মানুষ ক্রয় বিক্রয়ের ক্ষেত্রে কোন সামাজিক বা শারিরীক দুরত্ব মানছেন না।


এদিকে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত কীট পাচ্ছে না উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মাধ্যমে ১৫০টির মতো কীট সংগ্রহ করা গেছে। কীট সংকট দেখা দেওয়ায় কয়েক দাপে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী থেকে প্রায় ২০০ কীট ক্রয় করেন। কীটের স্বল্পতার কারণে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ থাকা সব রোগীর নমুনা সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। যাদের বেশী জ্বর, কাশি থাকে শুধু তাদের নমুনা পরীক্ষা সনাক্ত করা হচ্ছে। বাকী রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া নমুনা পরীক্ষা দেওয়ার ১ সপ্তাহ পরও মিলছেনা রির্পোট। ফলে রোগী নমুনা দিয়ে এসে হোম আইসুলেশনে না থেকে ইচ্ছে মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে। এতে করে রোগীর সংখ্যা আরো বাড়তেছে।


উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, মিরসরাইয়ে ১৭ জুন পর্যন্ত ৩৮ জন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জন সুস্থ হয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাধ্যমে ১৭৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
কীট সংকটের বিষয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, পর্যাপ্ত কীট না থাকায় করোনা ভাইরাসের উপসর্গ থাকা সব রোগীর নমুনা সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। সরকারী ভাবে আমরা ১৫০টির মতো কীট পেয়েছি। কীট সংকট থাকায় আমরা আরো ২০০টি কীট ক্রয় করেছি। কীটের স্বল্পতা কেটে গেলে নমুনা পরীক্ষা বাড়ানো সম্ভব।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে মুখে মাস্ক পরিধান, সামাজিক ও শারিরীক দুরত্ব বজায় রাখার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছে। মানুষ সচেতন না হওয়ায় রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়তেছে। গুরুত্বপূর্ণ কাজ না থাকলে কাউকে ঘরের বাইরে না যাওয়ার জন্য তিনি অনুরোধ করেন।

Double Categories Posts 1

Double Categories Posts 2