July 8, 2020

CHALAMAN

Mirsarai

রামগড়ে ব্রিজ নির্মাণে অনিয়ম, শুরু থেকে নেই কোন তদারকি; দূর্ভোগে গ্রামবাসী

রতন বৈষ্ণব ত্রিপুরা ::

রামগড় উপজেলায় ১ নং রামগড় ইউনিয়নে খাগড়াবিল বাজারের পাশে লালছড়ি এলাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে গ্রামীণ রাস্তা ১৫ মিটার দৈর্ঘ পর্যন্ত সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় সংযোগ ব্রিজের নির্মাণ কাজে অনিয়মসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নকশা বহির্ভূত নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারসহ নির্ধারিত দুই মাসের কাজ দীর্ঘ ৯ মাসেও ব্রিজ নির্মাণ না করায় দুর্ভোগে পড়েছে কয়েকটি গ্রামের কৃষক, ফল বাগান মালিক-ব্যবসায়ীসহ হাজার ও গ্রামবাসী।

এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে গ্রামবাসীর সুবিধার্থে খালে বাঁধ দিয়ে অস্থায়ী ভাবে বিকল্প সড়ক নির্মাণ করা হলেও তা ছিলনা টেকসই । ব্রিজ নির্মাণে বিলম্বিত হওয়ায় সম্প্রতি পাহাড়ী ঢলে ভেঙ্গে গেছে চলাচলের অস্থায়ী বাঁধটি। ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধটি পুনরায় নির্মাণ না করায় দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষক, ব্যবসায়ীসহ হাজারো গ্রামবাসী।

এদিকে ব্রিজ নির্মাণ কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান খাগড়াছড়ির রানজনী এন্টারপ্রাইজের সত্বাধীকারী বিকেন দেওয়ানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীত্বে সাব-ঠিকাদার ইলিয়াছ মুন্সি কাছে ব্রিজ নির্মানের বিষয়ে জানতে চাইলে সাব- ঠিকাদার এ প্রতিনিধিকে বলেন, সর্বক্ষেত্রে বেট ও হিসেব নিকেশ শেষ করেই কাজটি করতে হচ্ছে। তাছাড়া সঠিক সময়ে নির্মাণ শ্রমিক না পাওয়ার বিলম্বিত হচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মনসুর আলী এ প্রতিনিধিকে বলেন, মুল ঠিকাদারের সাথে কথা হয়েছে। ব্রিজের নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করতে বলা হয়েছে।

অনিয়মের বিষয়ে পিআইও বলেন, ব্রিজের কাজে কোন ধরনের ছাড় দেয়া হবেনা। শত ভাগ কাজ বুঝিয়ে নিয়েই তবে বিল উত্তোলন করতে দেয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় গ্রামীণ রাস্তায় ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের জুনে প্রায় ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে রামগড় ইউনিয়নে ৩টি ব্রিজ নির্মাণ কাজের টেন্ডার আহ্বান করা হয়।

তার মধ্যে খাগড়াবিল-লালছড়ি একটি। লটারির মাধ্যমে খাগড়াছড়ির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রানজনী এন্টারপ্রাইজ ব্রিজ নির্মাণের কার্যাদেশ পায়। কিন্তু কাজটি পাওয়ার পর ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্রিজ নির্মাণে বিলম্ব, নকশা বর্হিভূত ব্রিজ নির্মাণ, পুরাতন ব্রিজ অক্ষত রেখেই তার ওপর নতুন ব্রিজ নির্মাণ, নিম্নমানের রড, বালু, পাথরের ব্যবহারসহ ড্রাইভারশন ব্রিজ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়।

এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে এ প্রকল্পের সার্বিক প্রতিবেদন প্রতি মাসেই প্রেরণ করা হয়ে থাকে। তাহলে সচেতন সমাজের প্রশ্ন প্রতিবেদন যদি দিয়ে থাকে আজ কেন ব্রিজ নির্মানে অনিয়মসহ বিলম্বিত হচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে সংশিলষ্টদের কর্তব্য অবহেলার কারণেই আজ এ ব্রিজের নির্মাণ কাজের বিলম্বের প্রধান কারণ বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

ইউপি সদস্য আবদুল হান্নান ও বাজার সেক্রেটারী সাইফুল ইসলাম জানান, শুরুতেই ঠিকাদারের লোকজন নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই মাস পর নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ এ ব্রিজের কাজ শুরু করেছেন। তাদের বাঁধা প্রদান করা সত্বেও রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে ঠিকাদার প্রতি মাসে হঠাৎ কয়েক দিন পর পর মর্জিমত নির্মাণ কাজ করে আবার উধাও হয়ে যায়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গুরত্বপূর্ণ ও কৃষি নির্ভর এলাকা হওয়াতে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিকল্প সড়ক করা হলেও তা পর্যাপ্ত ছিলোনা। সময়মত ব্রিজটি নির্মিত হলে গ্রামবাসীকে এ দুর্ভোগ পোহাতে হত না। এ ব্যাপারে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিত্বে সম্প্রতি উপজেলা চেয়ারম্যান বিশ্ব প্রদীপ কুমার কার্বারী ব্রীজের নির্মাণ কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগ পেয়ে ব্রিজটির নির্মাণ কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে দেখা গেছে অনেক অনিয়মের সত্যতা। উপজেলার এমন একটি কৃষি নির্ভর গুরত্বপূর্ণ জনবহুল এলাকার ব্রিজের কাজে অনিয়ম গ্রহণযোগ্য নয়। ব্রিজটি সিডিউল অনুযায়ী দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

Double Categories Posts 1

Double Categories Posts 2