July 8, 2020

CHALAMAN

Mirsarai

কেউ ফেলে দেয় কেউ বুকে নেয়…

মুহাম্মদ নাজমুল হাসান

‘এ পৃথিবীর কেউ ভালোতোবাসেনা, এই পৃথবী ভালো-বাসিতে জানেনা..’ হৃদয়কাড়া এই গানের কিছুটা সত্য কিছুটা মিথ্যা। মানুষ-অমানুষ, মনুষত্ব-পশুত্ব এই শব্দগুলোর প্রয়োগীকতায় আমাদের নিত্য বসবাস।

বিশ্বব্যাপী করোনা নামক প্রাণঘাতি একটি ভাইরাস আমাদের কত কিছু দেখাচ্ছে। আমাদের মুখোশ উম্মোচন করছে। করোনা সন্দেহে গর্ভধারীনি মা-কে জঙ্গলে ছেড়ে দিয়ে আসি আমরা। বৃদ্ধ বাবাকে হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যাই!

আজ সারাদিন ধরে টাইমলাইনে একটি ছবি ভাসছে। আহ! কি হৃদয় বিদারক! কি মর্মান্তিক! আমরা জন্মস্থান মিরসরাইয়ে করোনা সন্দেহে লাশের আশে পাশে কেউ আসেনি। এমনকি পরিবারের সদস্যরাও না!!

মৃতব্যক্তি থেকে করোনা ছড়ায় এই বাস্তব সত্যকে আমরা মেনে নিচ্ছিনা। অথচ ঠিকই এদিক সেদিক ঘুরছি এটা সেটা করছি। শুধু কেউ মারা গেলে তার পাশে যাচ্ছিনা। আত্মীয় বা প্রতিবেশী যাওয়া না যাওয়া মুখ্যনা। নিজের পরিবারের সদস্যরা যখন এগিয়ে আসেনা তখন বড় প্রশ্ন দেখা দেয়। কি জন্য পরিবার? কি জন্যই বা স্ত্রী-সন্তান!!

প্রকত ঘটনার চৌম্বাকাংশঃ মিরসরাই উপজেলার ৫নং ওসমান পুর ইউনিয়নের সাহেবপুর কালা বক্স বাড়ি ছালেহ আহমদ। দীর্ঘদিন কুয়েত প্রবাসি ছিলেন। ২ বছর আগে দেশে এসে চট্টগ্রাম শহরে পরিবার নিয়ে থাকেন। ছালে আহমদের ছেলের ঘরে নাতি হয়েছে। সবাই হাসপাতালে ব্যস্ত। ঘরে অপ্রয়োজনী বৃদ্ধ বাবা নামের গুরুত্বহীন মানুষটি ঘরে একা মরে আছে।
একমাত্র বড়ো ভাই নুর আহমদ ও চট্টগ্রাম থাকেন। ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে ভাই লাশ নিয়ে গ্রামে আসেন বুধবার ফজরের কিছু সময় পর। স্ত্রী সন্তান পরিবারের কেউ সাথে না আসায় বাড়ীর লোকজন হঠাৎ লাশ দেখে করোনা রোগী ভেবে মুহূর্তে বাড়ির সব মানুষ নাই হয়ে যায় ।
সারাদিন মৃত ছালেহ আহমদের লাশ উঠানে রোদ বৃষ্টিতে চৌকির উপর পড়ে থাকে। বিকাল ৫টায় #শেষবিদায়েরবন্ধু রা ছালে আহমেদের বড়ো ভাই নুর আহমদের আবেদনের প্রেক্ষিতে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন স্যারের অনুরোধে লাশ গোসল ও দাপন কাঁপন সম্পন্ন করেছে।

আমাদের গর্ব শেষ বিদায়ের বন্ধুঃ সময় এবং প্রয়োজনীয়তাকে অত্যন্ত গুরুত্বসহারে যাঁরা বোঝেন তাঁদেরই কিছু পরিচতমুখ, প্রিয় বড় ভাই এই সংগঠনটি শুরু করেছেন। সংগঠন চালানো বা সাংগঠনিক ভিত্তি তাঁদের অনেক শক্ত এবং স্বীকৃত। কিন্তু মানুষের জন্য জীবনকে তুচ্ছ করে মানবতার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার সাহস দেখে তাঁদেরকে স্যালুট জানাতেই হবে, জানাতে বাধ্য।

গান্ধীজীর একটি অমর উক্তি হল- ‘জীবন নশ্বর, তাকে অমর করতে শেখো’। আমার প্রিয় বড় ভাইয়ের যে কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছেন তাতে তাঁরা জীবনকে অমরই করার জন্য এগিয়ে চলেছেন…

লিখাটি আমি শেষ যেভাবে করতে চেয়েছিলাম সেভাবে আমার প্রিয় বড় ভাই শেষ বিদায়ের বন্ধু সংগঠনের চেয়ারম্যান, মিরসরাই প্রেস ক্লাবের সভাপতি নুরুল আলম ভাই তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন। তাই নতুন করে না লিখে তাঁর লিখাটি হুবহু তুলে ধরে ইতি টানলাম।
‘‘ কার জন্য দুনিয়ার এতো আয়োজন, সারাজীবন নিজের সমস্ত চাহিদা প্রয়োজনকে গুরুত্বহীন মনে করা। আজ পরিবার স্ত্রী সন্তান তারা কোথায়?

শেষ বিদায়ের বন্ধু সংগঠনের কি প্রয়োজন? কি দরকার এ সংগঠনের? কেন? মরার পর বোবা লাশের কাছে নয়, এর জবাব চাই আপনার কাছে!। জীবন থাকতে নিজেকে খুঁজুন, নিজেকে জানুন। চারপাশে চোখ খোলা রাখুন। শেষ বিদায়ের বন্ধু আপনার একমাত্র আপন বন্ধু। তাকে জীবন থাকতে গুরুত্ব দিন। আমরা শেষ বিদায়ের বন্ধু………. ‘

Double Categories Posts 1

Double Categories Posts 2