July 8, 2020

CHALAMAN

Mirsarai

মায়ানীতে ৪ জন সহ ৫ করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্ত : মোট আক্রান্ত ১৭

এম এস হোসাইন

মিররসাইয়ের মায়ানী এলাকায় ৪ জন সহ একদিনে ৫ জন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছে। অন্যজন করোনা আক্রান্ত রোগীর দূর্গাপুর এলাকার হলেও নমুনা প্রদানের সময় পূর্নাঙ্গ ঠিকানা দেয়নি ওই রোগী। ১ জুন মধ্যরাতে সিভিল সার্জন কার্যালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

চট্টগ্রামের অ্ন্যান্য উপজেলার চেয়ে মিরসরাইতে তুলনামুলক কম রোগী করোনা আক্রান্ত হলেও একদিনে ৫ জন আক্রান্ত হওয়ায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ১ জুন ৫ জনসহ মিরসরাইয়ের বাসিন্দা ১৭ জনের দেহে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের তথ্য পাওয়া যায়।

মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান জানান, সর্বশেষ শনাক্ত হওয়া রোগীদের গত ২৭ মে নমূনা সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে রিপোর্টের জন্য বিআইটিআইডিতে পাঠানো হলে ১ জুন রাতে তাদের রিপোর্ট ‘পজিটিভ’ শনাক্ত হয়ে আসে।

আক্রান্তদের মধ্যে একজন মহিলা যার বয়স ৬৫ বছর, আর তিনজন পজিটিভ হওয়া পুরুষদের মধ্যে বয়স যথাক্রমে ৩৩, ৭০, এবং ৩২ বছর। তারা সকলেই উপজেলার ১৩ নং মায়ানী ইউনিয়নের, পশ্চিম মায়ানী এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

তবে অপর একজন রোগী বিআইটিআইডিতে নিজে নমূনা দিয়ে তার ঠিকানায় শুধুমাত্র দূর্গাপুর ব্যবহার করায় তিনি মিরসরাইয়ের ৮ নং দূর্গাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা কিনা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তিনি ৭৫ বছর বয়সের একজন বৃদ্ধ এবং পুুরুষ বলে জানা যায়।

১ জুনের রিপোর্টে মিরসরাইয়ের একজন রোগী পূর্বে ২ বার পজিটিভ শনাক্ত হলেও আজ তার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

এর আগে গত ৩০ মে বারইয়ারহাট এলাকার একজন ট্রাভেল এজেন্ট ব্যবসায়ী করোনা আক্রান্ত হন। আক্রান্ত ব্যক্তি চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী এবং একটি ট্রাভেল এজেন্সি’র মালিক। তার বয়স ৫২ বছর। কয়েকদিন যাবত অসুস্থ্যতা অনুভব করলে তিনি নিজে গত ২৭ মে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নমূনা দিয়ে আসে। পরবর্তীতে ৩০ মে তার পরীক্ষাকৃত নমূনার রিপোর্ট “পজিটিভ” আসে। তিনি বর্তমানে সদরঘাট থানা এলাকায় নিজ বাসায় আছেন।

২৪ মে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ নং জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকার ইছামতি মন্দির সংলগ্ন সাবেক এক মেম্বারের ছেলে। আক্রান্ত ব্যক্তি চট্টগ্রামের একটি কোম্পানীতে মার্চেন্ডাইজার হিসাবে কর্মরত ছিল। তার বয়স ৩৭ বছর। করোনা পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম থেকে নারায়নগঞ্জেও তার চলাচল ছিল বলে জানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথে জানা যায়, গত ১৮ এপ্রিল খৈয়াছড়া ইউনিয়নের নিজতালুক গ্রামে মিরসরাই প্রথম এক মহিলা করোনায় আক্রান্ত হন। বর্তমানে তিনি সুস্থ রয়েছেন।

গত ২৮ এপ্রিল মিঠানালা ইউনিয়নের পাত্তারপুকুর এলাকায় এক গাড়ি চালক করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর সে এখন সুস্থ হয়ে বাড়িতে রয়েছেন।

৬ মে করেরহাট ইউনিয়নের অলিনগর গ্রামের এক স্কুল ছাত্রী, ৮ মে খৈয়াছড়া ইউনিয়নের আমবাড়িয়া গ্রামে এক গার্মেন্টস কর্মী, ১০ মে উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী (পূর্বে আক্রান্ত স্কুল ছাত্রীর বোন), একইদিন হাইতকান্দি ইউনিয়নের বাসিন্দা এক ব্যক্তি ও ১৫ মে ৭ নং কাটাছড়া ইউনিয়নের মুন্সি বাড়িতে এক গার্মেন্টস কর্মীর করোনা ধরা পড়ে। গত ১৮ মে সদর ইউনিয়নের আবুনগর গ্রামে এক নারীর করোনা সনাক্ত হয়।

গত ২ মে করোনা আক্রান্ত হন ৪ নং ধুম ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ছালেহ্ আহাম্মদ মেম্বার বাড়ির এক বাসিন্দা। তার বয়স ৪৫ বছর এবং তিনি একজন পুরুষ। ওই ব্যাক্তি একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে কর্মরত আছেন।

মিরসরাই উপজেলার ‘নীরু নাথ’ নামে, ৩০ বছর বয়সী ঠিকানাহীন একজন করোনা “পজিটিভ” রোগীকে খুঁজছে প্রশাসন। তার রিপোর্টে পজিটিভ আসলেও তাকে এখনো পাওয়া যায়নি। তার ঠিকানা দেখানো হয়েছে বারইয়ারহাট কলেজ। নেই কোন যোগাযোগের মোবাইল নাম্বার। নেই কোন নির্ধারিত ঠিকানা। শুক্রবার (২৩ মে) তার নাম, ঠিকানার মিল না পাওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা প্রশাসন।

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, কোন ব্যক্তির করোনা পজিটিভ হওয়ার সাথে সাথে আমরা ওই ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে বাড়ি লকডাউন ও পরিবারের সকলকে হোম কোয়ারিন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দিয়ে থাকি। এরপর ওইসব ব্যক্তির পরিবারের সদস্য ও সংস্পর্শে আসা লোকদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আমি সকলের কাছে অনুরোধ করছি আপনারা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলুন। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়ার প্রয়োজন নেই।

Double Categories Posts 1

Double Categories Posts 2