July 8, 2020

CHALAMAN

Mirsarai

গালি দিলে সবাইকে দেন, ভক্তদের উদ্দেশ্যে ক্রিকেটাররা

ক্রীড়া ডেস্ক

ক্রিকেটে বাংলাদেশের পূর্ণ পথচলা ২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার মধ্য দিয়ে। এরপর থেকে বাংলাদেশে এই খেলার জনপ্রিয়তা বেড়েছে জ্যামিতিক হারে। ক্রিকেটে মানুষ হেসেছে, ক্রিকেটে মানুষ কেঁদেছে। দেশজুড়ে ক্রিকেট ভক্ত বেড়েছে অন্য যে কোনো খেলার চেয়েও বেশি আকারে। ক্রিকেটাররাও মাঠে নিজেদের সেরাটা দিয়ে থাকেন দেশের সম্মান ও ভক্তদের আনন্দ দেওয়ার জন্য। এটা মেনে নেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়ই। তাঁরা সবসময় এক বাক্যে বলেন, তাদের ভালো খেলার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা মাঠের দর্শকরা। কারণ দলের ভালো-খারাপ সব মুহূর্তে তাদের পাশে পাওয়া যায়।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে এখন অনেক তারকা। ফলে তাদের নিয়ে আলাদা কিছু ফ্যানবেইজ সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েকবছর ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সে সমর্থকগোষ্ঠী নিজের প্রিয় খেলোয়াড়ের নামের শেষে ‘ইয়ান’, যোগ করে নিজেদের পরিচয় দিয়ে থাকেন। নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের ভক্ত হওয়া অসাধারণ বিষয় হলেও, সমস্যা হচ্ছে নিজেদের প্রিয় খেলোয়াড়কে সেরা বলতে গিয়ে বাকী খেলোয়াড়দের ছোট করে ফেলার নোংরা মানসিকতা দেখাচ্ছে সে সব ভক্তরা। আর এই বিষয়ে কথা বলেছেন জাতীয় দলের চার সিনিয়র ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজা, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম।

শনিবার রাতে তামিমের শেষ লাইভ আড্ডায় যোগ দিয়েছেন মাশরাফি, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিক। সেখানে এই চার ক্রিকেটার তাদের ভক্তদের উদ্দেশ্যে পরিষ্কার বার্তা দিয়ে জানান, সবার আগে বাংলাদেশ দলের ভক্ত হতে হবে তাদের। আর নিজের পছন্দের ক্রিকেটার থাকতে পারে, তাই বলে আক্রমণাত্মক ভাষায় অন্য কোনো ক্রিকেটারকে নীচু করার মন মানসিকতা থেকে বেরুতে হবে। এই চার ক্রিকেটার আরও জানান, জাতীয় দলে তাঁরা সবাই ভাই-বন্ধু হয়ে খেলে থাকেন। তাদের নিজেদের মধ্যে সম্পর্কটা অসাধারণ পর্যায়ের। একই সম্পর্ক থাকুক তাদের ভক্ত-সমর্থকদের মাঝেও। কাঁদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে সবাই মিলে সাম্যের গানে মেতে উঠুক।

লাইভ আড্ডায় সবার প্রথমে তামিম বিষয়টি উঠিয়ে এনে সবার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এখন দেখেন প্রতিটা ক্রিকেটারের ভক্তদের আলাদা গ্রুপ থাকে। যেমন তামিমিয়ান, মুশফিকিয়ান, মাশরাফিয়ান, সব দর্শকদের পছন্দের খেলোয়াড় থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় কি, এই গ্রুপের কারণে মাঝেমাঝে একজন আরেকজনকে আক্রমণ করতে থাকে। এখন এই আক্রমণ কতটা ঠিক সেটা আমি জানি না। কিন্তু আমি অনুরোধ করব এই আক্রমণটা যেন আপনারা (ভক্তরা) না করেন। এই গ্রুপটা যেমন আছে থাক, সবাই আমরা বাংলাদেশের জন্য খেলি, সবাই বন্ধু-ভাই। তো আপনারাও এমন বন্ধু ভাই হয়ে থাকেন। তামিমের সমর্থকরা মুশফিককে গালি দেবে বা মুশফিকের সমর্থকেরা তামিমকে গালি দেবে, এটা আপনারা করবেন না।’

এ বিষয়ে তামিম ভক্তদের উদ্দেশ্যে কিছু বলতে বলেন মাশরাফিকে। বাংলাদেশের সফল এই ওয়ানডে অধিনায়ক বলেন, ‘এটা আমার অনেকদিন ধরে মাথায় এসেছে। আমি এই বিষয়ে একমত। আমাদের ক্ষতি কিন্তু আমরাই করতে পারি। আমাদের ক্ষতি কিন্তু বাইরের মানুষরা এসে করবে না। এটা কিন্তু একটা বড় ক্ষতি। আজকে আমাকে যে পছন্দ করে সে তামিমকে গালি দিচ্ছে, মুশফিককে যে পছন্দ করে সে আমাকে গালি দিচ্ছে। আসলে আমরা কার জন্য খেলি? আমরা আপনাদের জন্য খেলি, আমরা বাংলাদেশের জন্যই খেলি। গালি যদি দেন আমাদের সবাইকে একসঙ্গে দেন। খেলা নিয়ে একসঙ্গেই গালি দেন সবাইকে।’

এরপর তিনি আরও যোগ করেন, ‘সমালোচনা অবশ্যই থাকবে। কিন্তু নির্দিষ্ট করে কাউকে গালি দেবেন না। মুশফিক আজকে ভালো খেলেছে দেখে আপনি আর দশজনকে গালি দিবেন সেটা তো হতে পারে না। প্রত্যেকটা সমর্থকের আলাদা পছন্দের খেলোয়াড় আছে। তার মানে এই না যে প্রকাশ্যে এসে সেগুলা দেখাতে হবে। সবাই কিন্তু আমরা বাংলাদেশের জন্য খেলছি, আপনার জন্যই খেলছি। আলাদা আলাদা খেলোয়াড়ের ফ্যানবেইজ থাকুক, কিন্তু কাউকে অসম্মান করা বা কাউকে টেনে নামিয়ে নিয়ে আসার মতো কাজগুলা যেন না করি। এগুলো খুবই দৃষ্টিকটু। আমি আশা করব, ক্রিকেট ভদ্রলোকের খেলা। আমাদের দর্শকেরা সবসময় ভদ্রভাবে আমাদের সঙ্গে থাকবেন।’

আরেক সিনিয়র ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি করে আসলে কোন লাভ হয় না। নিজের গায়েই লাগে। সবারই পছন্দের খেলোয়াড় থাকে। তার মানে এই না যে আমি অন্যকে অপছন্দ করব। একটা জিনিস সবসময় মনে রাখতে হবে, ভালোর কোন বিকল্প নেই। আপনি যদি ভালো কাজ করেন তাহলে এর ফল ভালোই পাবেন। কাউকে সম্মান করলে তার বিনিময়ে সম্মান আপনিই পাবেন। অসম্মান কখনও পাবেন না। এই জিনিসটা একটু খেয়াল রাখবেন।’

সবার মতো করে একই আওয়াজ তুললেন মুশফিকও। তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ দলকে প্রতিনিধিত্ব করি। অনেক সময় সফল হই, অনেক সময় হই না। তার মানে এই না যে, একজনের জন্য দল হেরে যাচ্ছে, একজনের কারণেই দল জিতে যাচ্ছে। আমার মতে পুরো দলের সবাই আমরা সমান। দর্শক, মিডিয়া সবাই কিন্তু আমরা এর অংশ। জিতলেও সবাই একসঙ্গে জিতি, হারলেও সবাই একসঙ্গে। সম্মানটা খুবই জরুরি এবং আমি মনে করি সম্মানটা সবারই দেয়া উচিত। আমি কখনও চাইব না আমার ভক্তরা তামিম, রিয়াদ ভাই, সাকিব, মাশরাফি ভাইকে খারাপ বলুক। এটা আসলে আমিও মেনে নিতে পারি না। আমি মনে করি এটা সবাই খেয়াল রাখবেন।’

Double Categories Posts 1

Double Categories Posts 2