May 26, 2020

CHALAMAN

Mirsarai

করোনা মহামারিতে স্তব্দ পৃথিবী আসছে মহামন্দা

\ মনজুরুল হক ও এম এস হোসাইন \

নভেল করোনা ভাইরাসের অদৃশ্য থাবায় স্তব্দ গোটা পৃথিবী। থমকে দাঁড়িয়ে আছে পুরো বিশ্ব। মহামারিতে কার্যত অচল বিশ্বের সব দেশ। কভিড ১৯ তথা করোনা ভাইরাসের কারণে থমকে গেছে বিশ্বের অর্থনীতি। বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও স্থবিরতা বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে মারা গেছে কয়েক লাখ মানুষ। চারিদিকে শোকের মাতম আর আহাজারি। দরিদ্র মানুষেরা চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছে। বিত্তবানরা দাঁড়িয়েছন গরীবের পাশে। প্রতিনিয়ত করোনার যে রুপ দেখছে বিশ্ব তার ক্ষতি নিরুপন করা দুঃসাধ্য।

করোনাকালের দুঃসপ্নের এই যাত্রার শেষ কোথায় এখনো সবার অজানা। অর্থনীতিবিদরা বলছেন করোনার ধাক্কার পর আসবে আর্থনৈতিক মহামন্দা। এ পরিস্থিতিতে দরকার মানবিক সব রকম সহযোগিতা।

চীনের উহান প্রদেশ থেকে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের সংক্রমন কয়েক মাসের ব্যবধানে বিস্তৃত হয়ে গেছে পৃথিবীর সব প্রান্তে। এক এক করে নিভে যাচ্ছে জীবন প্রদীপ। লাশের মিছিল থামছেনা কোনভাবেই। এই লেখা যখন তৈরী হচ্ছিল তখন গোটা দুনিয়ায় প্রাণ হারিয়েছে ৩ লাখ ৩৫ হাজার মানুষ। আক্রান্ত হয়েছেন অর্ধ কোটির বেশি ।

করোনার নীল থাবায় আক্রান্ত এই জনপদও। সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রাকে স্তব্দ করে দেওয়া করোনা থেকে কবে মুক্তি মিলবে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টায় ঘরবন্দী কোটি কোটি মানুষ। উন্নত বিশ্বের মতো করোনার ছোবল এখনো সেভাবে আঁচড় না লাগলেও বাংলাদেশকে পরবর্তী হটস্পট হিসেবে ঘোষণা করছেন অনেকেই। প্রতিনিয়ত আক্রান্তের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে এমন আশংকা ঘনীভুত হচ্ছে তা সহজেই অনুমেয়।

করোনার আঘাতে বাংলাদেশের অর্থনীতিও গভীর সংকটে। দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান মাধ্যম তৈরী পোষাক শিল্প খাত এপ্রিল মাসে হারিয়েছে ৮৫ % প্রবৃদ্ধি। এই ঘটনা নজিরবিহীন। বাংলাদেশের তৈরী পোষাক খাতের ইতিহাসে এমন ঘটনা আর দ্বিতীয়বার ঘটেনি। দেশের বহু গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বেতন দিতে পারছেনা শত শত গার্মেন্টস। এই সেক্টরে কাজ করা কোটি কোটি শ্রমিক চাকরী নিয়ে দুশ্চিন্তায়। প্রতিনিয়ত বকেয়া বেতন আর চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদে রাস্তায় নামছে শ্রমিকরা। করোনা সংকট যেভাবে বাড়ছে এতে শেষ পর্যন্ত কত গার্মেন্টস বন্ধ হয়ে যায় আর কত কোটি শ্রমিক চাকরি হারাবে কোন পরিসংখ্যানে তা নির্ণয় করা কঠিন।

শুধু কি গার্মেন্টস সেক্টর? দেশের অর্থনীতির সাথে সম্পৃক্ত সকল সেক্টরই আজ কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন। মুলধন হারানোর শঙ্কায় দিশেহারা প্রতিষ্ঠান মালিক। অন্যদিকে চাকরী হরানোর শঙ্কায় কোটি কোটি পেশাজীবি। সংকট গভীর হওয়ায় চাকরী প্রত্যাশী বেকারদের চাকরী পাওয়ার পথ কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় দেশের অর্থনীতিতে মহামন্দা ধেয়ে আসছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই সংকট কাটিয়ে পূর্বের অবস্থানে নিয়ে যেতে বহু সময় অতিক্রম করতে হবে। করোনা কাল কবে শেষ হবে তার উপর নির্ভর করছে সকল হিসেব নিকেশ।

করোনা পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে সকল সামাজিক রীতি নীতি, আবেগ অনুভূতি সব কিছু। এক একটি মৃত্যু, অন্তিম যাত্রায় স্বজনের অনুপস্থিতি, লাশ সমাহিত করার করুণ চিত্র বিশ্ব বিবেককে করেছে স্তম্ভিত, শোকাহত। করোনা পরিস্থিতি ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির, সমাজের সাথে সমাজের তথাপি রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্কের ভীত দূর্বল করে দিয়েছে। এই চেইন যদি ছিন্ন হয়ে যায় তাহলে অর্থনৈতিক বিপর্যয় দীর্ঘস্থায়ী হবে এটি নিশ্চিত বলা যায়।

এ দিকে করোনাকালে লাশ নিতে স্বজনের অস্বীকৃতি, করোনা আক্রান্তদের রাস্তায় ফেলে চলে যাওয়ার নিদারুন চিত্র যেমন আছে তেমনি আছে এই সংকটে কিছু মানবিক দিকও। উদার ও দানবীর মনের মানুষরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন শহর নগরে। দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, চিকিৎসক, স্বেচ্ছাসেবীদের মানবিক কাজগুলোও আশান্বিত করে। সংকটকালে ত্রানের থলে নিয়ে মানবিক মানুষগুলোর অগ্রযাত্রা এই দুঃসময়ে জীবন বাঁচানোর আশার আলোর সঞ্চার করে।

বিশ্ব খাদ্য সংস্থা ‘ডব্লিওএফপির’র প্রধান ডেভিড বসেলে বলেছেন, করোনা সঙ্কটের কারণে যে অর্থনৈতিক সঙ্কট ধেয়ে আসছে তা খুবই ভয়াবহ। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘ বিশ্বের গরিব জনগোষ্ঠীর মুখে খাদ্য তুলে দেয়ার ব্যবস্থা করতে না পারলে কমপক্ষে তিন কোটি মানুষ অনাহারে মারা যেতে পারে। করেনাকালীন সময়ে বিশ্বের উন্নত অনুন্নত দেশে যেভাবে অনাহারীর সংখ্যা বাড়ছে সেখানে করোনা পরবর্তী সময়ে ডব্লিওএফপির’র প্রধানের এমন উক্তি বাস্তবে রুপ নেবে তা ধরেই নেওয়া যায়।

গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি তথা অঘোষিত লকডাউনে থমকে গেছে বাংলাদেশের উৎপাদনমুখী সকল সেক্টর। পরিবহন, সেবাখাত, তৈরী পোষাক শিল্প, আইটি, রপ্তানি, কৃষি, পর্যটন, আবাসন, শিক্ষা, শিল্প কারখানা, কুটির শিল্প, পোল্ট্রি, ডেইরী, মৎস, তাঁত শিল্প, জাতীয় ও গ্রামীন অর্থনীতির সাথে সম্পৃক্ত সকল সেক্টর মুখ থুবড়ে পড়েছে। মুলধন হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে লাখ লাখ উদ্যোক্তা। ঋণের জালে আবদ্ধ অনেক উদ্যেক্তা ব্যবসা হারিয়ে ঋণের টাকা শোধ কিভাবে শোধ করবেন এই চিন্তায় দিশেহারা। করোনা কাল যত দীর্ঘ হবে অর্থনীতির নেতিবাচক ধারা ততটাই প্রবল হবে।

করোনা সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন সেক্টরে প্রণোদনা সহ নানা মুখী উদ্যোগ গ্রহন করেছে। এসব উদ্যোগ প্রসংসতি হয়েছে দেশ তথা বিশ্বমহলে। এই সংকট মোকাবেলায় শুধুমাত্র রাষ্ট্র নয় ব্যক্তি পর্যায়েও ভূমিকা রাখতে হবে। সংকটকালীন এই সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম নীতি এবং রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা মেনে চলা সবার নৈতিক দায়িত্ব। সকলের সম্মিলীত উদ্যোগই ও সহযোগিতাই পারবে এই কঠিন দুঃসময় কাটিয়ে উন্নতির ধারায় পুনর্বার যাত্রা শুরু করতে।

Double Categories Posts 1

Double Categories Posts 2



প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ মনজুরুল হক, সম্পাদক : এম এস হোসাইন।
সম্পাদকীয় কার্যালয় : সোনালী ব্যাংক ভবন (২য় তলা), কোর্ট রোড, মিরসরাই, চট্টগ্রাম।
মোবাইল: ০১৯১৯৫৪০৬৫৫, ০১৮১৫৫০০৭০৫, ০১৮১২৭৫৯৬৬০, ০১৮২৯৬২৩৪৩১; ই মেইল: chalamannews@gmail.com


This website is under constructions by: MACRO, Email: macrotelctg@gmail.com