August 6, 2020

CHALAMAN

Mirsarai

করোনাকালে অসহায় মানুষের পাশে ওমান প্রবাসী আবদুল মতিন

এম মাঈন উদ্দিন

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে অভুক্ত ও অসহায় মানুষের দুয়ারে দুয়ারে হাজির হচ্ছেন আবদুল মতিন। চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী দিয়ে এই দুর্যোগের মধ্যেই হাসি ফোটাচ্ছেন হতদরিদ্রদের মুখে। মিরসরাই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন এবং দুটি পৌরসভার খুব কম এলাকা রয়েছে, যেখানে মতিনের পা পড়েনি। করোনা ক্রান্তিকালে মানবিকতার পরিচয় দিয়ে বেশ প্রশংসা কুড়াচ্ছেন এই ওমান প্রবাসী।

জানা গেছে, রাত-বিরাত নেই, খবর পেলেই খাবার নিয়ে ছুটছেন তিনি। গ্রাম থেকে গ্রামে, এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্তে খাদ্য বিলিয়ে যাচ্ছেন এই মানবদরদী। বিরামহীন ছুটে চলা মানুষটি এখন গরীব-দুঃখীর পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।

তবে অঢেল সম্পদে মালিক নন নিরহংকারী, বিনয়ী, সদা হাস্যোজ্জল আব্দুল মতিন। নিজে খেয়ে বেঁচে থাকার পাশাপাশি আশপাশের অভূক্ত মানুষদেরও কিছু বিলিয়ে দেওয়ার মন্ত্রে তিনি এই কাজে নেমেছেন। কর্মহীন, অসহায় মানুষদের ব্যাক্তিগত তহবিল ও কিছু আপনজনের সহযোগিতায় ইতিমধ্যে পাঁচ শতাধিক পরিবারকে খাদ্য সরবরাহ করেছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য সামগ্রী তিনি পৌঁছে দিয়েছেন। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে তার মোবাইল নম্বর দেয়া রয়েছে উপজেলার যে কোন প্রান্ত থেকে ত্রানের জন্য ফোন এলে তিনি ছুটে যাচ্ছেন সেখানে। এভাবে চলছে আবদুল মতিনের বর্তমান দিনকাল।

এ ছাড়াও তিনি মিরসরাই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী তার ব্যক্তিগত গাড়ি করে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছেন।

অবস্য আবদুল মতিনের মানবিকতার দৃষ্টান্ত এই প্রথম নয়। এর আগেও তিনি এ ধরনের কাজে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে নানা প্রান্তের মানুষের দুঃসময় তাকে টেনে নিয়েছে।

আবদুল মতিনের মানবিক কাজের কাজ সম্পর্কে সমকালের ঢাকা অফিসের স্টাফ রিপোর্টার জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমরা যখনই কারও কষ্টের কথা তুলে ধরি, সঙ্গে সঙ্গে তিনি (মতিন) সাড়া দেন। যখন যেখান থেকে মানবতার ডাক পেয়েছেন ছুটে গেছেন। তার মধ্যে কোনো কার্পণ্য বা কান্তি দেখা যায়নি।’

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা বা পড়াশোনায় সহযোগিতা চেয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ আহ্বান করলেই তিনি সাড়া দেন। তিনি নিজে তো বটে, বন্ধু-শুভাকাঙ্খীদেরও সম্পৃক্ত করেন এ ধরনের কাজে। ইতিমধ্যে তিনি এগিয়ে আসায় বেশ কয়েকজনের ক্যান্সারসহ জটিল অসুখের চিকিৎসা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আবদুল মতিন বলেন, মানুষের প্রয়োজনে এগিয়ে আসাই আসল মনুষ্যত্ব। আমি চাই সমাজের কোন মানুষ খাবারের অভাবে কষ্ট না করুক। মানুষের প্রয়োজনে আসতে অঢেল সম্পদের মালিক হতে হয় না। নিজের যা আছে, সেখান থেকেই অন্যের মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব। এই ধরনের কাজে খুব তৃপ্তি পাওয়া যায়। সবাই যেন এই করোনা মহামারীর সময় বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ান, সেই আহ্বান করেন আবদুল মতিন।

আব্দুল মতিন মিরসরাই পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড নাজিরপাড়া গ্রামের মৃত হাজ্বী আবদুল হাদীর পুত্র।

এমইউ/সিএম

downloadfilmterbaru.xyz bigoporn.club bok3p.site sablonpontianak.com

Double Categories Posts 1

Double Categories Posts 2