May 26, 2020

CHALAMAN

Mirsarai

কবে কাটবে এই অন্ধকার!

শাহ আব্দুল্লাহ আল রাহাত

ভোরে পূবের আকাশে সূর্যের আগমন । বেলা বাড়তেই কড়া রোদে জ্বলজ্বল করে চারদিক।মুখে মাস্ক আর হাতে গ্লাভস পরিহিত মানুষের আগমন ও শুরু। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে হাট গুলোতে মানুষের আনাগোনা।

ফার্মেসি, মুদি দোকান, কাঁচাবাজার বাদে বাকি সবখানে তালা ঝুলছে আর খোলা দোকান এবং কাঁচাবাজার গুলোতে ধীরে ধীরে ভিড় ও বাড়ছে। ক্রেতা এবং বিক্রেতা সকলেরই মুখে মাস্ক, অনেকই পড়েছেন গ্লাভস তবে সামাজিক দূরত্বে ঢালাও করে প্রচার করা হলেও ছিঁটেফোঁটা ও মানার সুযোগ নেই। মাছ বাজার গুলোতে ক্রেতারা মাস্ক পড়ছেন ঠিকই তবে গা ঘেঁষে চলছে দরকষাকষি।

বিত্ত আর উচ্চবিত্তরা বাজারের ব্যাগ ভারি করছেন বড় বড় মাছ দিয়ে। আর মধ্যবিত্তরা দরকষাকষির চেয়ে বেশী ভাবতে হয় পকেটে থাকা ভাংতি ৫০ কিংবা ২০ টাকার নোট গুলিকে। আজ বড় মাছ খেলে কাল যে উপোস থাকবো এমন নিশ্চয়তা দেবে কি!

এমন প্রশ্নের ঘুরপাক খেতে খেতে সামান্য টাকার সবজি কিনে ঘরতে ফিরতে হয় তাদের।আর নিম্ন বিত্তরা তাকিয়ে থাকে কেউ কোথাও ত্রাণ নিয়ে এলো কিনা! এভাবে করতে করতে বেলা ফুরিয়ে যায়। যে যার ঘরে ফিরে যায়। কেউ ব্যাগে নিয়ে বড় মাছ, কেউ সবজি হাতে কেউ বা শুধু খালি হাতে। যতই বেলা বাড়ছে ঘিরে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। দুপুরের প্রখর রোধে শূন্য মরুভূমির মতো খাঁ খাঁ করছে বাজার গুলো। দুপুর পেরিয়ে বিকেলে হলে বাজার গুলো হয়ে যায় জনশূন্য।

বাজার গুলোতে বাড়তে থাকে গ্রাম্য পুলিশের টহলদারি। পুলিশ আর সেনাবাহিনী ছুটে যায় প্রত্যন্ত অঞ্চল গুলোতে যাতে কোনভাবেই জন সমাগম না হয়। বিকেলের মাঠ গুলোতে আগে যেখানে ফুটবল নিয়ে দূরন্ত কিশোররা ছুটে চলত সেখানে আজ ঘর বসে ঝিমতো হচ্ছে তাদের। কেউ আবার শস্যহীন আবাদী জমি গুলোতে ফুটবল ক্রিকেট খেলে সময় পার করছেন। অনেকে লুকিয়ে চা পান বিক্রি করলে ও এখন সন্ধ্যা নামতেই চারদিকে ভুতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয়, সেটি ও আর সম্ভব হয় না।

যেন মন হয় জন-মানবহীন অতল গহ্বরে লুকিয়ে গেছে কোলাহলপূর্ণ হাট গুলো। আগে যেখানে সন্ধ্যা ঘনিয়ে দোকান গুলোতে এলে চায়ের আড্ডায় জমে ওঠতো পরিবেশ সেখানে আজ কেবল নিরবতার ধ্বনি। এই কেমন সময়!

যেখানে মানুষ মানুষের জন্য ভয়। এই যে ভয়ানক আঁধার, যে আঁধার রাতে চেয়ে ও অন্ধকার। খবরের দৃশ্য গুলোতে কেবলই মৃত্যুরই হাতছানি। মনে হয় এক এক ধাপ করে এগিয়ে আসছে মৃত্যৃকুপ। হাওয়ায় পাখি গুলো উড়ছে আর মানুষ পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এই যেন এক মহা পাপের শাস্তি! আমাদের আধাত্মিক বিষয়ের প্রতি খামখেয়ালিতার পরিণাম।

তাইতো আওয়াজহীন চিৎকার, কবে কাটবে এই অন্ধকার। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাস্পাস গুলোতে শ্যাওলা বাঁধতে শুরু করেছে। ক্যান্টিন গুলোতে নেই কফি আড্ডা, পড়ন্ত বিকেলের ক্যাফটেরিয়ায় গরম তৃষ্ণার চা পান ও নেই। নেই কবিতার আড্ডা, হয়নি পহেলা বৈশাখ, এবার হয়ে ওঠেনি একদিনের বাঙ্গালী সাজ। দিনের আলোয় যেন ভর করছে রাতের নিঃস্তব্ধতা। নেই জীবিকা, পূরণ হচ্ছে না কর্মহীনদের খাদ্য চাহিদা। তাই তো অসহায় কুটির গুলোতে মানবিক মানুষগুলোর ত্রাণ নিয়ে ছুটোছুটি, সরকারি বেসরকারি নানা মুখী উদ্যোগ। তারপর যে নিঃস্তব্ধ চিৎকার কবে কাটবে এই অন্ধকার।

লেখক – সাংবাদিক, সংগঠক।

-সিএম

Double Categories Posts 1

Double Categories Posts 2



প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ মনজুরুল হক, সম্পাদক : এম এস হোসাইন।
সম্পাদকীয় কার্যালয় : সোনালী ব্যাংক ভবন (২য় তলা), কোর্ট রোড, মিরসরাই, চট্টগ্রাম।
মোবাইল: ০১৯১৯৫৪০৬৫৫, ০১৮১৫৫০০৭০৫, ০১৮১২৭৫৯৬৬০, ০১৮২৯৬২৩৪৩১; ই মেইল: chalamannews@gmail.com


This website is under constructions by: MACRO, Email: macrotelctg@gmail.com