May 26, 2020

CHALAMAN

Mirsarai

স্বাগত ১৪২৭ সবার জন্য মঙ্গল বয়ে আনুক

আরও একটি বাংলা নতুন বছরে পা রাখলাম আমরা। এমন সময়ে নতুন বছর তথা পহেলা বৈশাখ বাঙালি জীবনে এলো যখন করোনাভাইরাসের কারণে সারা বিশ্ব থমকে আছে। আতঙ্ক বিরাজ করছে আমাদের মাঝেও। কারণ বাংলাদেশ করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত নয়। বাংলাদেশে আক্রান্ত হয়েছে ১০১২ জন আর মৃতু্য হয়েছে ৪৬ জনের। বাংলাদেশ যথেষ্ট ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে জনগণকে ঘর থেকে বের না হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বলা চলে, সারাদেশে চলছে লকডাউন। সঙ্গত কারণেই সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাইরে কোনো নতুন বছরের উৎসব হবে না। ফলে নতুন বছরকে ঘিরে বাঙালির চিরাচরিত উচ্ছ্বাস এবার আর চোখে পড়বে না। চোখে পড়বে না অশুভ বিতাড়নের ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রা। ছায়ানটও এবার চিরাচরিত প্রথা ভেঙে ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় উৎসব পালন করবে।

রমনার বটমূলে ১৯৬৭ সালে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার নব-উন্মেষকালে ছায়ানট সেই যে কাকডাকা ভোরে রবীন্দ্রনাথের নববর্ষ বরণের আবাহনী গান গেয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল, সেটিই রাজধানীবাসীর সবচেয়ে বড় উৎসবের কেন্দ্র। ছায়ানট সভাপতি সন্‌জীদা খাতুন এর আগে বলেছিলেন, “অন্তরে ইচ্ছা জাগুক ‘ওরা অপরাধ করে’- কেবল এ কথা না বলে প্রত্যেকে নিজেকে বিশুদ্ধ করবার চেষ্টা করি। আর আমরা যেন নীতিবিহীন অন্যায় অত্যাচারের নীরব দর্শকমাত্র হয়ে না থাকি। প্রতিবাদে প্রতিকার সন্ধানে হতে পারি অবিচল- নববর্ষ এমন বার্তাই সঞ্চার করুক আমাদের অন্তরে।” পহেলা বৈশাখ পরমতসহিষ্ণুতা, সদ্ভাব, ভ্রাতৃত্ববোধ ও বিবেক এবং মনুষ্যত্বের দীক্ষা দিয়ে যায় আমাদের। তাই তো আমরা বলে উঠি- “প্রাণে প্রাণে লাগুক শুভ কল্যাণের দোলা, ‘নব আনন্দ বাজুক প্রাণে’। আজ ‘মুছে যাক গস্নানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’।

মনে রাখতে হবে, নিজস্ব সংস্কৃতিকে উপলব্ধি এবং এর নিরন্তর চর্চা করা যে কোনো জাতির জন্যই গৌরবের। এ গৌরব বাঙালি জাতিরও রয়েছে। হাজার বছরের বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও কৃষ্টি আমাদের ঐতিহ্য। এ ঐতিহ্যের ধারকবাহক বাঙালি। এই বাঙালি সংস্কৃতির চিরায়ত রূপ ফুটে ওঠে বাংলা নববর্ষের দিন। করোনাভাইরাসের কারণে ব্যতিক্রম কেবল এবার।

অপ্রিয় হলেও সত্য, আমরা মুখে বাঙালি সংস্কৃতি চর্চার কথা বলি কিন্তু কাজে উল্টো। উন্নত সমাজ গঠন করতে হলে ভদ্রজনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, তবে কোনোভাবেই শেকড়বিচ্ছিন্ন হয়ে নয়। শেকড়বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া মানে দেশীয় সংস্কৃতির বাইরে চলে যাওয়া। আমাদের প্রবণতা সেদিকেই। যে করেই হোক নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে হবে। দেশ এবং দেশের ঐতিহ্য ও কৃষ্টি সম্পর্কে উৎকৃষ্ট চিন্তা করা এবং কাজের মাধ্যমে তার প্রতিফলন ঘটানোই হচ্ছে সংস্কৃতি। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘বিদ্যাকে যদি হীরার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তাহলে তাহাতে দু্যতি ছড়িয়ে পড়বে সেই হবে তার সংস্কৃতি’। আর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছেন, ‘যতদিন বাংলার আকাশ থাকবে যতদিন বাংলার বাতাস থাকবে, ততদিন বাংলার সংস্কৃতি থাকবে’। কিন্তু বাংলা সংস্কৃতির চর্চা যদি বাঙালির মধ্যে না থাকে, বাঙালি যদি তার বাঙালিত্ব, বাংলা ভাষা, ইতিহাস-ঐতিহ্য, কৃষ্টি ভুলে যায় এবং তার চর্চা থেকে বিরত থাকে তবে বাঙালির নিজস্বতা বলতে তো আর কিছুই থাকবে না।

আমরা চাই বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশা, আবেগ ও অনুভূতিকে যথাযথ মূল্যায়ন করে বৈরি সময়েও দেশটির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনতে সর্বাধিক গুরুত্ব দেবে। দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য রক্ষা নিশ্চিত করবে। জাতির এ ক্রান্তিকালে দেশ ও জাতির মঙ্গলে সবার ভেতরে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত দেশপ্রেম জাগ্রত হোক, খুলে যাক সম্ভাবনার নতুন দুয়ার- মানুষ বেঁচে থাকুক, বাঙালি বেঁচে থাকুক নতুন বছরে এ প্রত্যাশাই করছি। দুঃখ-গস্নানি, অতীতের ব্যর্থতা পেছনে ফেলে তাই এগিয়ে যাওয়ার শপথ নেয়ার দিন পহেলা বৈশাখ। নতুন বছর সবার জন্য মঙ্গল বয়ে আনুক। সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা।

-সিএম

Double Categories Posts 1

Double Categories Posts 2



প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ মনজুরুল হক, সম্পাদক : এম এস হোসাইন।
সম্পাদকীয় কার্যালয় : সোনালী ব্যাংক ভবন (২য় তলা), কোর্ট রোড, মিরসরাই, চট্টগ্রাম।
মোবাইল: ০১৯১৯৫৪০৬৫৫, ০১৮১৫৫০০৭০৫, ০১৮১২৭৫৯৬৬০, ০১৮২৯৬২৩৪৩১; ই মেইল: chalamannews@gmail.com


This website is under constructions by: MACRO, Email: macrotelctg@gmail.com