সন্দ্বীপ চ্যানেলে ড্রেজারডুবি : একে একে উদ্ধার হলো আট শ্রমিকের মরদেহ

মিরসরাইয়ে ড্রেজারডুবিতে নিহত আট শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রায় ৬৩ ঘন্টা সময়ে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০ পর্যন্ত একে একে সবগুলো মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এসব মরদেহ ইতোমধ্যে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কোন গাফিলতি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখার আশ^াস দিয়েছে মিরসরাই উপজেলা প্রশাসন।

এদিকে সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার নাগাদ বশর হাওলাদার (৩৫) এর মরদেহ উদ্ধারের পর উদ্ধার অভিযান সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এর আগে ওইদিন সকাল ৯টা থেকে পৌনে ১০টার মধ্যে শাহিন মোল্লার (৩৫) ও সাড়ে ৯টায় তারেক মোল্লার (২৮) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার রাত ৯টায় প্রথম উদ্ধার করা হয় রহমান ফকিরের ছেলে মো. আল-আমিন ফকিরের মরদেহ। পরদিন বুধবার সকালে একসাথে উদ্ধার হয় আনিচ মোল্লার ছেলে ইমাম হোসেন মোল্লা, আব্দুল হক মোল্লার ছেলে মাহমুদ মোল্লা, সেকান্দার বারির ছেলে মো. জাহিদ বারির মরদেহ। একইদিন রাত ১১টায় উদ্ধার হয় নুরু সরদারের ছেলে আলম সরদারের মরদেহ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে উদ্ধার হয় আনিচ মোল্লার আরেক ছেলে শাহিন মোল্লা, ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে বশর হাওলাদার ও সর্বশেষ রহমান খানের ছেলে তারেক মোল্লা। তারা সবাই পটুয়াখালী জেলা সদরের জৈনকাঠি গ্রামের বাসিন্দা।

চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন এর উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ হারুন পাশা বলেন, ‘ড্রেজারডুবিতে নিখোঁজ ৮ শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে পুলিশের কাছে লাশগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘উদ্ধার অভিযানে আমাদের আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের ডুবুরি দলের ৬ সদস্য ছিলো। সাথে মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের ৮জন ও কোষ্টগার্ডের সদস্যরা ছিলেন।’

দুর্ঘটনার পর থেকে সব ধরণের উদ্ধার অভিযানে স্বয়ং উপস্থিত থাকা মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর থেকে লাশগুলো উদ্ধার হওয়া পর্যন্ত ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। প্রায় ৬৩ ঘন্টা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে সাগরে ডুবে যাওয়া ড্রেজার থেকে একে একে আট শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, কোষ্টগার্ড, পুলিশ ও স্থানীয় জনসাধারণের আপ্রাণ প্রচেষ্টায় লাশগুলো উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। দুর্ঘটনায় ড্রেজার মালিকের গাফিলতি হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, মিরসরাই উপজেলার ১৬ নম্বর সাহেরখালি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ৩নম্বর বসুন্ধরা এলাকায় বেড়িবাঁধ থেকে ৫০০ ফুট দূরত্বে বঙ্গপোসাগরের স্বন্দ্বীপ চ্যানেলে রাখা ছিলো সৈকত এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বালু উত্তোলনের ড্রেজার সৈকত-২। এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি মিরসরাইয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বালু সরবরাহের কাছ করছিলো। গত সোমবার (২৪ অক্টোবর) ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর প্রভাবে সাগর উত্তাল হয়ে পড়লে রাত সাড়ে ১০টার নাগাদ সাগরে থাকা ড্রেজারটি ডুবে যায়। এসময় ড্রেজারে নিয়োজিত ৮ শ্রমিক ভেতরেই ছিলেন।

আরো খবর