লেবুর রাজ্য করেরহাট, সুযোগ আছে আরব আমিরাতে রপ্তানির

সালাউদ্দিন মাহাদী

করেরহাটের উচু নিচু পহাড়ে সারি সারি লেবুর বাগান। ২ শতাধিক বাগান থেকে প্রতিমাসে গড়ে বিক্রি হয় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার লেবু। বাগান থেকে লেবু সংগ্রহ করে পাইকারী ব্যবসায়ীরা এসব লেবু পৌছে দেন চট্টগ্রাম নগর সহ বিভিন্ন জেলা উপজেলায়।
সময় পরিক্রমায় লেবুর চাহিদা বাড়ায় করেরহাটেও বাড়ছে লেবু চাষ। প্রায় ৪ শত চাষী লেবু চাষে সম্পৃক্ত ।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রঘুনাথ নাহা বলেন, মিরসরাই উপজেলায় এই মৌসুমে ১৫০ হেক্টর জমিতে লেবু চাষ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু করেরহাটে চাষ হয়েছে ৮০ হেক্টর জমিতে। প্রতি হেক্টরে চার টন হিসেবে মিরসরাইয়ের ১৫০ হেক্টর জমিতে ৬০০ টন লেবু উৎপাদন হয় এক বছরে।

লেবু চাষীরা জানিয়েছেন, পাহাড়ী এলাকায় লেবুর ফলন বেশি হয়। তাছাড়া এই এলাকায় কৃষি বিভাগ থেকে লেবু চাষে বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়ায় কৃষকরাও লেবু চাষে আগ্রহী হয়েছেন। সঠিক নির্দেশনা পেলে আকাশ পথে আরব আমিরাতে করেরহাটের লেবু রপ্তানিরও সুযোগ রয়েছে ।

লেবু চাষী নবী সওদাগর জানান, এ বছর ফলন ভালো হওয়ায় এবং বাজারে দাম থাকায় এবার দাম বেশি পাচ্ছেন গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ। লেবু চাষে সরকারি কোনো সহযোগিতা নেই বললেই চলে। সরকারি সহযোগিতা ও কৃষি অধিদপ্তরের মনিটরিং, প্রশিক্ষণ থাকলে উৎপাদন অনেকাংশে বৃদ্ধি পেতো”

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করেরহাট থেকে মিরসরাই, সিতাকুন্ড, ছাগলনাইয়া, ফেনী, পরশুরাম, চট্টগ্রাম মহানগর সহ ভিবিন্ন বড়বড় বাজারে দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০ বস্তা লেবু সরবরাহ হয়। বাজারের দাম অনুযায়ী পাইকারি হিসেবে চাষীরা প্রতি বস্তা বিক্রি করেন ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত । খুচরা বাজারে আকার অনুযায়ী প্রতি লেবু ৫-১০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি অফিস সুত্র জানায় এই মৌসুমে মিরসরাইয়ের বিভিন্ন ইউনিয়নে ১৮০ জন লেবু চাষীকে প্রশিক্ষণ, চারা এবং উপকরণ প্রদান করা হয়েছৈ।
চট্টগ্রাম জেলা সিনিয়র কৃষি বিপনন কর্মকর্তা মো: সেলিম মিয়া বলেন, চট্টগ্রাম শহরে দৈনিক প্রায় ২ লাখ পিস লেবু বিক্রি হয়। আকার ভেদে খুচরা পর্যায়ে প্রতি হালি (৪ পিস) ২০ থেকে ৪০ টাকা এবং পাইকারি প্রতি হালি ৮ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হয়।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লেবু নগরীতে সবজীর বড় পাইকারী বাজার রেয়াজুদ্দিন বাজার, কর্ণফুলী কাজার, কর্ণেল হাট সহ বিভিন্ন পাইকারী বাজারে আসে সেখান থেকে বিভিন্ন খুচরা বাজারে চলে যায় লেবু।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলার উপ পরিচালক কৃষিবিদ মো: আক্তারুজ্জামান বলেন, চট্টগ্রাম জেলায় ১৫ হাজার ৯ হেক্টর জমিতে লেবুর চাষ হয়েছে। এসব জমি থেকে লেবুর ফলন হয়েছে ১৩ হাজর ১৬০ মেট্রিক টন। লেবুর উৎপাদন বাড়াতে কৃষি বিভাগ চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই, রাউজান, সাতকানিয়া, ফটিকছড়ি সহ ৭ টি উপজেলায় লেবু জাতীয় ফসলের সম্প্রসারণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এসব উপজেলার পাহাড়ী অঞ্চলে চাষ হচ্ছে লেবুর।

সুযোগ আছে আরব আমিরাতে রপ্তানির

আকাশ পথে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে আরব আমিরাতে লেবু রপ্তানি হয়। চট্টগ্রামের পটিয়া, চন্দনাইশ সহ কয়েকটি উপজেলার লেবু রপ্তানি হলেও মিরসরাইয়ের লেবু রপ্তানি হয়না। পাইকারী ব্যবসায়ীরা রপ্তানির জন্য লেবু সংগ্রহ করলে করেরহাটের লেবু রপ্তানির সুযোগ আছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম ভেজিটেবল এক্সপোটার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফোরকান রুবেল।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে জারা, বাংলা, এলাচি জাতের লেবু রপ্তানি হয়। সিলেট, নরসিংদী ছাড়াও চট্টগ্রামের পটিয়া চন্দনাইশ এলাকা থেকে এসব লেবু আসে।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রঘুনাথ নাহা এই প্রসঙ্গে বলেন, জারা লেবু বিদেশে রপ্তানি হয় বেশি। মিরসরাইতে এই লেবুর চাষ হয়না। আমরা জারা জাতের লেবুর চাষের জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ পরিচালক শৈবাল কান্তি আচার্য বলেন, আকাশ পথে বাংলাদেশ থেকে আরব আমিরাতে লেবু রপ্তানি হয়। চট্টগ্রাম বিমান বন্দর দিয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩৯ মেট্রিক টন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২০১ মেট্রিক টন লেবু রপ্তানি হয়। তবে করোনার কারণে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ থাকায় চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে ২১ টন।

আরো খবর