রমজানের আগেই বাড়ছে ভোগ্যপণ্যের দাম

নুরুল আমিন রায়হান

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় রমজান শুরু না হতে বেড়েই চলেছে সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম। এতে করে বেকদায় পড়েছে দিনমজুর, নিন্মবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকেই দাম নির্ধারণ করে দিতে হয়েছে। তেল ছাড়াও ডাল, সাদা মটর ও রমজানের অত্যাবশকীয় পণ্য ছোলার বাজার বাড়তি।

মিরসরাই এক স্থানীয় ব্যবসায়ী আলমগীর জাানান, সয়াবিন তেল দুই সপ্তাহে আগে ছিলো কেজি প্রতি ১১০ টাকা। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। ডাল ছিল কেজি প্রতি ৬৫ আর এখন ১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। মোহম্মদ বশির নামে একজন ক্রেতা বলেন, যে হারে ভোগ্যপন্যের দাম বড়েছে এতে আমাদের মতো মধ্যবিও পরিবার চলতে অনেক কষ্টকর হচ্ছে। রমজানের আগে নিত্য পন্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে সরকার প্রতি দাবি জানান তিনি।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চিনির দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে গিয়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়, মাঝারি মানের ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা, যা গত দুই সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকায়। চিকন মশুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা এবং মোটা মশুর ডাল কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে গিয়ে বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকায়। অন্যদিকে মটর ডাল কেজিতে ৬ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গিয়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৮ টাকা, মুগ ডাল ৫ টাকা বেড়ে গিয়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪৮ টাকা। পেঁয়াজের কেজি ৩ টাকা বেড়ে গিয়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা, চীনা রসূন ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা, ভারতীয় আদা ৭০ টাকা এবং চীনা আদার দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে গিয়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়।

এদিকে বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি করলা ৭০ টাকা, ঢেঁঢ়স ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, লতি ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, সজনে ২০০ থেকে ২২০ টাকা, গাজর ২০ থেকে ৩০ টাকা, শিম ৬০ টাকা, বেগুন ৪০ টাকা, টমেটো ২০ টাকা, প্রতি পিস লাউ আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা। মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৩০ টাকা, আলু বিক্রি হচ্ছে ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজি, কলা এক হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। পেঁপে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। কেজিপ্রতি খিরাই ৪০ থেকে টাকায়, শসা ৫০ টাকায়, মটরশুঁটি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকায়।

মিরসরাই সদরের আল মদিনা স্টোরের খুচরা বিক্রেতা মো. অলিউল্লাহ বলেন, পাইকারীতে দাম বাড়লে আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হয়। দাম কমে গেলেও আমরা কমিয়ে দিই।

মোঃ শহীদুল ইসলাম নামের এক স্কুল শিক্ষক বলেন, বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোতে রমজান মাসে ভোগ্যপণ্যের দাম কমে যায়। কিন্তু আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা এ সময়টাকে ব্যবসা করার জন্য মোক্ষম সময় হিসেবে বেছে নেয়। ইতোমধ্যে বাজারে সব ধরনের পণ্য ঊর্ধ্বগতিতে ছুটছে। তাই এখন থেকে বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন যদি উদ্যোগ না নেয়, তবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যাবে।

বারইয়ারহাট বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ হেদায়েত উল্লাহ বলেন, আমাদের দেশে ভোগ্যপণ্যের বাজার পুরোটাই ব্যবসায়ীরা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তারা একেক সময় একেক অজুহাতে দাম বৃদ্ধি করে যান। প্রশাসনও এদের কাছে অসহায়। তারপরেও অন্তত সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থে প্রশাসনকে একটু কঠোর হতে হবে।

আরো খবর