সম্পত্তি না দেওয়ায় বাবা, মা ভাইকে জবাই করে হত্যা

মোহাম্মদ ইউসুফ:

মিরসরাইয়ে পারিবারিক কলহে একই পরিবারের তিনজনকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। নিহতরা হলেন মো. মোস্তফা (৫৬) তার স্ত্রী জোস্নে আর (৪৫) ও মেঝ ছেলে আহমদ হোসেনকে (২৫)। হত্যায় জড়িত সন্দেহে বড় ছেলে সাদেক হোসেন সাদ্দাম (৩০) কে আটক ও তার স্ত্রী আইনুর নাহারকে হেফাজতে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। বুধবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টায় উপজেলার ৩নং জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মধ্যম সোনাপাহাড় গ্রামের মোস্তফা সওদাগরের বাড়ীতে এই নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটে।

বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে ৪ টায় পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাদেক হোসেন সাদ্দাম বাবা, মা ও ভাইকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। পুলিশ বাড়ির পেছন থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চুরিটি উদ্ধার করেছে।

নিহত মো. মোস্তফার ছোট ছেলে আলতাফ হোসেন বলেন, ভোর রাতে বড় ভাই সাদেক হোসেন আমাকে ফোন দিয়ে বলেন বাড়িতে ডাকাত এসেছিলো, বাবা, মা ও মেজো ভাই কে জবাই করে ফেলেছে। তুই তারাতাড়ি আয় তাদের হাসপাতালে নিতে হবে। আমি বাড়িতে এসে দেখি বাবা মা আর মেঝো ভাইয়ের নিথর দেহ ঘরের ভেতর পড়ে আছে। রাতে বাড়িতে বাবা, মা, বড় ভাই ও তার স্ত্রী আইনুর নাহার, তাদের ৪ বছর বয়সী একটি ছেলে এবং মেজো ভাই আহমদ হোসেন ছিলো। আমি চাকুরীর কারণে বারইয়ারহাট মাছের আড়তে থাকি। আমার বাবা কিছু জায়গা জমি মেঝো ভাই আহমদকে দিয়ে দিয়েছিলো। ওটা নিয়ে বাবা-মায়ের সাথে বড় ভাইয়ের প্রায় ঝগড়া হতো।
৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মনির আহমদ ভাসানী বলেন, মো. মোস্তফা প্রকাশ মোস্তফা সওদাগর অনেক ভালো মানুষ ছিলেন। সম্প্রতি ২ ছেলেকে বাদ দিয়ে বাড়ির জমিটি ছোট ছেলে, মেয়ে ও স্ত্রীর নামে রেজিষ্ট্রি করে দেওয়ায় বড় ছেলের সাথে প্রায় সময় ঝগড়া হতো। বড় ছেলে ঘরে খরচের টাকা কম দিতো। মেঝো ছেলের বিয়ের জন্য টাকা চাওয়াতে আবারো ঝগড়া হতে পারে। সে থেকে এমন হত্যাকান্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জোরারগঞ্জ থানার ওসি নুর হোসেন মামুন বলেন, বাবা, মা ও ভাইকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বড় ছেলে সাদেক হোসেন। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চুরিটিও উদ্ধার করা হয়েছে। পারিবারিক সম্পত্তির বিরোধে এমন হত্যাকান্ড হয়েছে বলে জানা গেছে।

সহকারী পুলিশ সুপার (মিরসরাই সার্কেল) লাবিব আবদুল্লাহ বলেন, এটি একটি হত্যাকান্ড। এখানে ডাকাতির কোন ঘটনা ঘটেনি। ঘরের ভেতর থাকা মোবাইল, আসবাবপত্র সব পরিপাটি অবস্থায় আছে। নিহত মো. মোস্তফা মিয়া তার স্ত্রী জো¯েœ আরা বেগম ও মেঝো ছেলে আহমদ হোসেনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাদের শরীরে একাধিক জখমের আঘাত আছে। ধারালো ছোরা দিয়ে এই হত্যাকান্ড করা হয়। এঘটনায় নিহতের ছেলে সাদেক হোসেন ওরফে সাদ্দামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তার অন্তসত্তা স্ত্রী আইনুর নাহারকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম থেকে আসা পিবিআই ও সিআইডি বিশেষজ্ঞ টিম ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) বিকেল ৪টা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি।

আরো খবর