মিরসরাইয়ে স্কুল ছাত্রীকে
অপহরণের অভিযোগে একজন আটক

top Banner



মিরসরাইয়ে দশম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে রিয়াজুল ইসলাম (২৪) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। আটক রিয়াজুল ইসলাম ভোলা জেলার লালমোহন থানার মো. আলী আজগরের ছেলে। এই ঘটনায় গত রোববার (২৯ জানুয়ারি) রাতে মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানায় মামলা (নাম্বার ২২) দায়ের করেন ওই ছাত্রীর মা।

জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের দূর্গাপুর নগেন্দ্র চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্রী নিলুফা (ছদ্মনাম) স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সিএনজি-অটোরিক্সায় তুলে স্থানীয় মিঠাছরা বাজারে নিয়ে যায় রিয়াজুল ইসলাম। সেখান থেকে কুমিল্লা কোটবাড়িয়া যাওয়ার কথা বলে ঢাকাগামি সৌদিয়া পরিবহনের টিকেট কাটেন রিয়াজুল ইসলাম। মেয়েটির গায়ে স্কুল ড্রেস ও কাঁধে স্কুল ব্যাগ দেখে কাউন্টারে মালিক সুজনের সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে সুজন সৌদিয়া পরিবহণের চালককে বলি বারইয়ারহাট কাউন্টারে এই দুইজন যাত্রীকে নামিয়ে দিতে। চালক তাদেরকে নামিয়ে দিলে স্থানীয় কাউন্টারের লোকজন মেয়েটিকে তার বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে অভিযুক্ত রিয়াজুল ইসলামকে দুর্গাপুর নগেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধ্যায় স্কুল কমিটির অভিযোগ পেয়ে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ রিয়াজুলকে আটক করে নিয়ে যায়। নানা নাটকীয়তার পর রাত ১০টায় ওই ছাত্রীর মা বাদি হয়ে জোরারগঞ্জ থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন।
মিঠাছরা বাজার বাস কাউন্টারের মালিক সুজন জানায়, মেয়েটির পরনে স্কুল ড্রেস আর কাঁধে স্কুল ব্যাগ ছিলো। সাথে থাকা লোকটির আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় গাড়ির চালককে ফোন করে বলি তাদের বারইয়ারহাট কাউন্টারে নামিয়ে দিতে। পরে দুর্গাপুর স্কুলের সহকারী শিক্ষক মো. রফিক এর সাথে যোগাযোগ করে মেয়েটিকে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ছেলেটিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর কি হয়েছে তা আর জানতে পারিনা।
দূর্গাপুর নগেন্দ্র চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, স্কুল থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে যে কোন স্থান থেকে তাকে সিএনজি করে মিঠাছরা বাজারের বাস কাউন্টারে নিয়ে যায় রিয়াজুল ইসলাম। সেখান থেকে টিকেট কেটে বাসে উঠার পর সন্দেহ হওয়ায় তাদেরকে বারইয়ারহাট বাস কাউন্টার নামিয়ে দে গাড়ির চালক-হেলপার। এরপর মেয়েটি বাড়িতে চলে যায়। ছেলেটিকে সন্ধ্যায় লোকজন স্কুলে নিয়ে আসে। বিষয়টি আমি তখন স্কুলের সভাপতি জসিম উদ্দিনকে জানালে তিনি থানায় ফোন করলে পুলিশ এসে ছেলেটিকে নিয়ে যায়। পরে মেয়েটির মাসহ অভিভাবকেরা থানায় যান।

জোরারগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খাইরুল আলম জানান, সোমবার দুপুরে ভিকটিম এর জবানবন্দি নেওয়ার জন্য বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার এজাহার এবং ভিকটিম এর দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আসামীকে আদালতে প্রেরণ করে দেওয়া হয়েছে।

আরো খবর