কঠিন সমীকরণ : বাংলাদেশেকে জিততে দরকার ৫ উইকেটে ২৬০ রান

ক্রীড়া ডেস্ক

ক্যান্ডির দ্বিতীয় টেস্টের উইকেট শুরুর দুই দিন ব্যাটসম্যানদের পক্ষে কথা বলেছে। তৃতীয় দিন থেকে চরিত্র বদলাতে শুরু করে। আজ (রোববার) ম্যাচের চতুর্থ দিনে ব্যাটসম্যানদের নাকাল বানিয়ে রাজত্ব দেখান স্পিনাররা। দিনের খেলা শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ১৭৭ রান।

ম্যাচের পঞ্চম ও শেষদিনে কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে টাইগাররা। ম্যাচ জিততে হলে করতে হবে আরও ২৬০ রান। হাতে আছে ৫ উইকেট। লিটন দাস ১৪ ও মেহেদী হাসান মিরাজ ৪ রান নিয়ে পঞ্চম ও শেষদিনে আবার ব্যাটিং শুরু করবেন।
গুগল নিউজ-এ ঢাকা পোস্টের সর্বশেষ খবর পেতে ফলো করুন।

বাংলাদেশকে ফলোঅন না করিয়ে ২৪২ রানে এগিয়ে থাকা শ্রীলঙ্কা ২ উইকেট হারিয়ে ১৭ রান নিয়ে ম্যাচের তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করে। সবেমিলে ২৫৯ রানের লিড নিয়ে আজ চতুর্থ দিন ব্যাটিংয়ে নামে স্বাগতিকরা। দিনের সপ্তম ওভারে স্বস্তি এনে দেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ফ্লাইট ডেলিভারিতে পরাস্ত হয়ে শর্ট লেগে বদলি ফিল্ডার ইয়াসির আলী রাব্বির হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য হন আগের দিনের অপরাজিত ব্যাটসম্যান অ্যাঞ্জেলা ম্যাথিউজ। ফেরেন ১২ রান করে।

এরপর তাইজুলকে চার মেরে ক্যারিয়ারের ২৬ তম ফিফটির দেখা পান দিমুথ করুনারত্নে। সঙ্গে শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো কোনো সিরিজে ৪০০ রানের বেশি করেন। এরপর পার্টটাইমার সাইফ হাসানের বলে আইট হন তিনি। এগিয়ে এসে ফ্লিক করতে চেয়েছিলেন, ব্যক্তিগত ৬৬ রানের মাথায় শর্ট লেগে ধরা পড়েন রাব্বির হাতে।

তাইজুল, তাসকিন, মিরাজদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দ্রুত বেশ কয়েকটি উইকেট হারিয়ে বসে শ্রীলঙ্কা। তাইজুল পাঁচ উইকেট পাওয়ার পর ১৯৪ রানে ইনিংস ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কা। ফলে বাংলাদেশের সামনে টার্গেট দাঁড়ায় ৪৩৭ রানের। এই রান তারা করে জিততে হলে বাংলাদেশকে গড়তে হবে বিশ্ব রেকর্ড। এর আগে কোনো দল এত রান তাড়া করে জেতেনি। সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড রয়েছে। বাংলাদেশ জিতেছে সর্বোচ্চ ২১৫ রান তাড়া করে।

পাহাড়সম লক্ষ্য টপকাতে নেমে দলীয় ৩১ রানের মাথায় ইনফর্ম তামিম ইকবালের উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ দল। আগের ৩ ইনিংসে অর্ধশতক করা তামিম আজ আউট হন মাত্র ২৪ রান করে। এরপর থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি সাইফ হাসান (৩৪), নাজমুল হোসেন শান্ত (২৬) ও মুমিনুল হকরা (৩২)।

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো টাইগাররা শেষ সেশনে হারায় মুশফিকুর রহিমের উইকেট। ৪০ রানে আউট হওয়া মুশফিক ব্যক্তিগত ৬ রানে একবার জীবন পেয়েছিলেন। এরপর মেন্ডিসের টার্ন করা লাফিয়ে ওঠা বল মিরাজের প্যাডে লেগে যায় শর্ট লেগে দাঁড়ানো ফিল্ডারের হাতে। কিন্তু মিরাজ রিভিউ নিলে দেখা যায় বল লাগেনি ব্যাটে; এমনকি মিস করে স্টাম্পও। শেষ পর্যন্ত রক্ষা পান মিরাজ। আম্পায়ের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বেঁচেছেন লিটন দাসও।

বৃষ্টি আর আলোক স্বল্পতার কারণে আজও কয়েক ওভার বাকি থাকতে দিনের খেলা শেষ হয়। ম্যাচের পঞ্চম ও শেষদিনে কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে টাইগাররা। ম্যাচ জিততে হলে করতে হবে আরও ২৬০ রান।

আরো খবর