আমাদের উদাসীনতায় কিছু প্রান ঝরে যায় অকালে, আচমকা

ডাঃ মোঃ শওকত আলী

আমাদের উদাসীনতায় কিছু প্রান ঝরে যায় অকালে, আচমকা। পাথর চোখে দেখতে হয় করুন পরিনতি । আমি সুজন মন্ডলের আত্নহত্যার কথা বলছি। প্রানবন্ত অল্প বয়সী একজন ছেলে। পাখী নিয়ে গবেষনা তার। ক্যামেরা নিয়ে ঘুরতো মিরেরসরাই এর প্রত্যন্ত অঞ্চলে। উদ্দেশ্য একটাই। পাখীদের ছবি তোলা। নিত্যনতুন পাখীদের সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে তোলা। ইত্তেফাকের মিরেরসরাই প্রতিনিধি ছিলো সুজন মন্ডল। কোন রাজনৈতিক রিপোর্ট করতোনা সে। পাখীই তার সবকিছু। আমাকে বলতো, স্যার আপনি কি কোন পাখীকে মরতে দেখেছেন কখনো? আমি বলতাম, দেখেছি ইলেক্ট্রিক পোষ্টে বিদ্যুতায়িত পাখীর মৃত্যু। সে বলতো, স্বাভাবিকভাবে পাখীর মৃত্যু হয় গভীর জঙ্গলে। মরার আগে পাখীরা বুঝে যায়, তার সময় শেষ। তাই অন্তিম সময়ে এসে, পাখীরা গভীর জঙ্গলে চলে যায়, এবং ওখানেই তাদের মৃত্যু ঘটে। সেজন্য আমরা পথে ঘাটে কোন মৃত পাখী দেখিনা। সুজন মণ্ডলও কি বুঝে গিয়েছিলো তার সময় শেষ! তাই সে নিরবে নিভৃতে নিজের অফিস ঘরকেই মৃত্যুর ঠিকানা বানিয়ে নিয়েছিল?
সুজন মন্ডল সম্ভবত ধরে নিয়েছিল,তার বেঁচে থাকার আর প্রয়োজন নেই। তাই সে আত্নহত্যার পথ ধরেছে। এই যে বেঁচে থাকার দিব্য অপ্রয়োজন, তাকে জেঁকে ধরেছিল, এটা একটা রোগ। উপসর্গ হলো Suicidal tendency বা আত্নহত্যার প্রবণতা। এই রোগের নাম মেজর ডিপ্রেসিভ ইলনেস (major depressive illness), বা বাইপোলার ডিজঅর্ডার(Bipolar disorder) বা সিজোফ্রেনিয়া( Schizophrenia) রোগ। সময়মতো ডায়াগনোসিস হলে এবং পরিবারের সাপোর্ট পেলে সহজেই চিকিৎসা করা যায়। বেঁচে যায় সুজন মন্ডলের মতো অনেক প্রতিভাবান যুবক। এদের অনেকেই প্রাথমিকভাবে সমাজ ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একাকী জীবনযাপন করতে থাকে।মাদকাসক্ত হয় অনেকে।একসময় বেছে নেয় আত্নহত্যার পথ। আমাদের একটু সচেতনতাই পারে অনেক মুল্যবান জীবন বাঁচিয়ে দিতে।
সুজন মন্ডলের জন্য এক বুক ভালবাসা।
সীমাহীন শোক।

ডাঃ মোঃ শওকত আলীর ফেসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া

আরো খবর