আকিব শিকদারের কবিতা : চুলকিয়ে ঘা অথবা থুতু গেলার গল্প

মাথায় এতদিন একটা বালুর বস্তা নিয়ে হাঁটছিলাম।
আজ নেমে গেল। আমার বউ চলে গেছে বাপের বাড়ি,
মানে ডিভোর্সের প্রস্তুতি…

ক্লাস নাইনে পড়তে আমার বন্ধু চুন্নু, যে এখন
হনুমান তলায় লেপ-তোষকের দোকানদার, বলেছিল—
“ভালো পুটকি চুলকিয়ে ঘা বানাইস না।”
আমি সেই থেকে অকারণে মানুষকে খুঁচিয়ে
কথা বলা বাদ দিয়েছি। কিন্তু আমার বউ চলে গেছে…
প্রেম করে বিয়ে কি না, আমার বাপে-মায় মানতে পারেনি। কারণে অকারনে
তাকে বাপ তুলে গালি দিত। বলতো— “ছোটলোক,
আনকালচার্ড, পরিবার থেকে শিক্ষা পায়নি।” — এই নিয়ে ঝগড়া।

দুদিন পরপর গড়বড় যাতে কম হয়, বউয়ের কতো অপরাধ
ঢাকতে আমি কতো চিৎকার মুখ থেকে বের হওয়ার আগেই
পেটে চালান দিয়েছি।
মনে হয়েছে প্রেম করে বিয়ে করা মানে
একটা বিশাল বালুর বস্তা মাথায় নিয়ে হাটা।
ইন্টারমিডিয়েট ক্লাসে আমার বন্ধু হিমেল বলতো—
“থুতু একবার ফেলে দিয়ে সেটা মাটি থেকে চেটে তোলা অপমানকর। “
আমি থুতু ফেলার আগে ভেবে ফেলতাম, চাটার হলে
মুখে থাকতেই গিলে নেওয়া ভালো।
বউ বাপের বাড়ি চলে গেছে। বাপ-ভাইয়ের পরামর্শে
পিটিয়ে বিদায় করেছি।
মন কেন কাঁদে! তবে কি এখন আমাকে
মাটিতে ফেলা থুতু চেটে তুলতে হবে!!

আরো খবর