বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি চালুর দাবিতে মিরসরাই বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের মানববন্ধন

top Banner
  • বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) মৌলবাদী গোষ্ঠীর কালোছায়া থেকে মুক্ত করে নিয়ম তান্ত্রিক ছাত্র রাজনীতির দাবিতে এবং বুয়েট কর্তৃক অসাংবিধানিক, মৌলিক অধিকার পরিপন্থী শিক্ষা বিরোধী সিগ্ধান্তের বিরুদ্ধে মিরসরাই বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের উদ্যোগে মানববন্ধন করেছে।

বুধবার (৩ এপ্রিল ) বিকালে ছাত্রলীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা -চট্টগ্রাম মহাসড়কে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সরওয়ার জামান সিফাতের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান শিফনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হোসেন চৌধুরী তপু। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন, ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর ইকবাল নাহিদ, আরিফুর রহমান, মিঠুন শর্মা।উত্তর জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক নেওয়াজ,সহ -সম্পাদক নুর ছাপা নয়ন, উপ -সমাজ সেবা সম্পাদক কাউসার হোসেন সোহেল, পৌরসভা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আলাউদ্দিন আলো,যুগ্ম আহবায়ক সাইদুর জামান হান্নান, ইমাম হোসেন রাহাত, খৈয়াছড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নাহিদুল হাসান রাবিব।মিরসরাই কলেজ ছাত্রলীগের সহ- সভাপতি হোসাইন রাকিব,হোসাইন রিয়াদ।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হোসেন চৌধুরী তবু বলেন, গত পাঁচ বছর আগে বুয়েটে একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে গেছে। সেখানে আবরার ফাহাদের লাশের উপর একটি মৌলবাদী গোষ্ঠী রাজনীতি শুরু করেছে। সেদিন বুয়েটের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন করলেও তাদের পিছনে একটি চক্র কাজ করেছে। বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত থাকবে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনীতির মাধ্যমেই নিজেদের মতামত প্রকাশ করে। বুয়েট তো বাংলাদেশের বাইরে নয়। আমাদের দাবি বুয়েটের ছাত্র রাজনীতি সঠিক প্রক্রিয়ায় চলবে। হাইকোর্ট ইতোমধ্যে বলেছে এখানে ছাত্র রাজনীতিতে বাধা নেই। আমরা এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ৩০ লাখ মানুষ আত্মত্যাগ করেছে। সেখানে বুয়েটের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীও ছিল। বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের সবচেয়ে মেধাবীদের কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সেখানে আবরার হত্যায় জড়িত প্রত্যেককে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। সুনামগঞ্জের হাওরে যারা ধরা পড়েছে তাদের নিয়ে তো কোনো কথা নেই। বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও চায় ছাত্র রাজনীতি চালু থাকুক। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি কোনায় ছাত্র রাজনীতির চর্চা থাকতে হবে।বুয়েট শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ হোসেন রাহিম রাব্বির আবাসিক হলের যে সিট বাতিল করে, বুয়েট প্রশাসন কর্তৃক স্বাধীনতা দিবসে ফুল দেওয়ায় বাধা প্রদান করে তার প্রতিবাদ এবং নিন্দা জানিয়ে সারা বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ আজ জেগে উঠেছে। তারই প্রতিবাদে আজকে আমরা এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছি। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ১৭ হাজার নেতাকর্মী শহীদ হয়েছিল। সেই ছাত্র রাজনীতিকে গলাচিপে হত্যা করার জন্য বুয়েট প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আপনারা জানেন মহামান্য হাইকোর্ট বুয়েট প্রশাসনের এ নোংরা সিদ্ধান্ত বাতিল করে ছাত্র রাজনীতির নতুন দিক উন্মোচন করেছে।আমরা চাই একটি প্রতিষ্ঠানে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ছাত্ররাজনীতি চালু থাকবে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করবে এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদায়ে পাশে থাকবে। দেশসেরা প্রতিষ্ঠান বুয়েটে যদি এই ছাত্র রাজনীতি তথা যারা মুক্তিযুদ্ধের ধারক এবং বাহক, তাদের চর্চা না থাকে, তবে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। যেকোনো মূল্যে এ দেশের ছাত্র সমাজ বুয়েটকে হিজবুত তাহরীর মতো নিষিদ্ধ সংগঠন ও শিবিরের মতো স্বাধীনতাবিরোধী সংগঠনের হাত থেকে রক্ষা করবে। যেসব শিক্ষার্থী রাজনীতি নিষিদ্ধের আড়ালে অন্ধকারের রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, তাদের প্রতিহত করতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশনা মোতাবেক চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখা ছাত্রলীগ সর্বাদা মাঠে থাকতে প্রস্তুত রয়েছে।

আরো খবর