আট মাসে কাজের অগ্রগতি ২০ শতাংশ

বারইয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়ক প্রশস্তকরণ

top Banner

রামগড় স্থলবন্দর হয়ে ভারত থেকে সড়ক পথে পণ্য রপ্তানি আমদানির জন্য ৩৮ কিলোমিটারের বারইয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। সড়কটি লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) মাধ্যমে প্রশস্তকরণ করা হচ্ছে। গত বছরের জুন মাস থেকে ব্রীজ নির্মাণের মাধ্যমে প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়। বর্তমানে প্রকল্পের ২০ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি ভারত সরকারের এলওসি-৩ এবং বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন তহবিলের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে ব্যায় ধরা হয়েছে ১১শত কোটি টাকা। ২০১৭ সালের ৫ এপ্রিল দিল্লিতে এবিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এই প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকার দেবে ৫শত ১৩ কোটি ৭ লাখ টাকা। অন্যদিকে ৫শ ৯৪ কোটি ৭ লাখ টাকা ঋণ দেবে ভারত সরকার। প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ২৪৯.২০ মিটারের ৯টি সেতু ও ১০৮ মিটারের ২৩টি কালভাট ও ৩৮ ফুট প্রস্থের ৩৮ কিলোমিটার সড়ক। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১১২ কিলোমিটার দূরত্বে রামগড় স্থলবন্দরটি ব্যবহার করে মাত্র ৩ ঘন্টায় পণ্য যাবে ভারতে।

এর আগে অন্য একটি প্রকল্পে বারইয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়কে ২৮১ কোটি টাকা ব্যায়ে জাইকার অর্থায়নে রামগড় থেকে বারইয়ারহাট পর্যন্ত ১৬টি ব্রীজ ও কালভার্টের কাজ শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিপিসিএল। ব্রীজ ছাড়াও ব্রীজের পাশে ২০০ থেকে ৩০০ মিটার এপ্যোচ সড়ক নির্মাণ করে তারা।

জানা গেছে, ২০২৩ সালে ২৪ মে বারইয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়ক প্রশস্থ করণের কাজ ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সড়কটি প্রশস্থকরণে ব্যায় ধরা হয়েছে ১১শত কোটি টাকা। এই প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকার দেবে ৫শত ১৩ কোটি ৭ লাখ টাকা। অন্যদিকে ৫শ ৯৪ কোটি ৭ লাখ টাকা ঋণ দেবে ভারত সরকার। প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ২৪৯.২০ মিটারের ৯টি সেতু ও ১০৮ মিটারের ২৩টি কালভাট। প্রকল্পটি ভারত সরকারের এলওসি-৩ এবং বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন তহবিলের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ২৪৯.২০ মিটারের ৯টি সেতু ও ১০৮ মিটারের ২৩টি কালভাট। ২০২৩ সালের জুন মাসে ব্রীজ নির্মাণের মধ্য দিয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। তবে গত বছরের জুন-জুলাইয়ে প্রচুর বৃষ্টি থাকায় কাজের অগ্রগতি তেমন হয়নি। দেড় বছর মেয়াদের এই প্রকল্পে কাজ শেষ হবে আগামী বছরের ৩১শে ডিসেম্বরে। সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শেষ হলে ঢাকা থেকে রামগড়ের যোগাযোগ আরো সহজ হবে। এছাড়া রামগড় স্থলবন্দর ব্যবহার করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মাত্র ৩ ঘন্টায় ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে পণ্য যাবে ভারতে। গতি পাবে আমদানি রপ্তানিতে। মিরসরাই-সোনাগাজী ও সীতাকুন্ডে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে উৎপাদিত পন্য খুব সহজে ভারতে রপ্তানি করা যাবে। সড়কটি প্রশস্তকরণের কাজ পেয়েছে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অশোকা বিল্ডকন লিমিটেড। রামগড়ের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপনে ইতোমধ্যে মিরসরাই ফটিকছড়িসহ উত্তর চট্টগ্রামের সড়ক ব্যবস্থাপনায় এসেছে বৈপ্লবিক উন্নয়ন। এছাড়া মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল ও চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দরের নানা কর্মকান্ডে বারইয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ৭ মাসে প্রকল্পের মোট অগ্রগতি হয়েছে ২০ শতাংশ। দ্রুত প্রকল্পটি শেষ করতে দিন রাত কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিনে মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট ও করেরহাট অংশে গিয়ে দেখা যায়, সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বারইয়ারহাট পৌরসভার ইসলাম মার্কেট এলাকায় সড়কের পূর্ব পাশে ও করেরহাট বাজারের দক্ষিণ পাশে দেয়া হয়েছে ঢালাই। এছাড়া বিভিন্ন অংশে চলছে মাটি ভরাটের কাজ।

এবিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ চট্টগ্রাম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলি পিন্টু চাকমা বলেন, গত বছরের জুন মাসে বারইয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে। তবে জুন-জুলাইয়ে বৃষ্টি থাকায় কাজের তেমন অগ্রগতি হয়নি। এখন দ্রুত গতিতে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। উদ্বোধনের পর থেকে প্রকল্পের মোট অগ্রগতি ২০ শতাংশ। প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত রয়েছে বলে তিনি জানান।

আরো খবর